জেলা প্রতিনিধি
০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৪ এএম
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় কাফন পরে রাস্তায় নেমেছেন একদল যুবক। তাদের হাতে খাতা-কলম। সংগ্রহ করতে দেখা গেছে পথচারীদের নাম-ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার পৌরসভা সিএনজি স্টেশন এলাকায় এই দৃশ্য দেখা যায়।
কাফন পরে গণস্বাক্ষরের কারণ বিষয়ে কর্মসূচির ডাক দেওয়া মুক্তাগাছা উপজেলা এনসিপির সদস্য সচিব শেখ তুহিন জানান, বেপরোয়া গতির রাজিব পরিবহনের রোড পারমিট বাতিলের দাবিতে এবং সড়কে জনসাধারণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের এই কর্মসূচি। গত রোববার থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ চলবে।
তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের টনক নড়াতেই কাফনের কাপড় পরে এনসিপির পক্ষে থেকে আমরা একদল যুবক গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি। এক দিনেই যে পরিমাণ স্বাক্ষর নেওয়া সম্ভব হয়েছে, তা ধারণার বাইরে। রাজিব বাসের বেপরোয়া গতি এবং দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আকাশ সমান। যার নমুনা সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্তভাবে গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে শামিল হওয়া।
এনসিপির এই নেতা বলেন, আমি যতটুকু জেনেছি রাজিব পরিবহনের রোড পারমিট রয়েছে জামালপুর থেকে টাঙ্গাইল টু ঢাকা মহাসড়কের, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মোটর মালিক-শ্রমিক নেতাদের ম্যানেজ করে জামালপুর-মুক্তাগাছা-ঢাকা রোডে চলাচল করছে বাসটি।
অবিলম্বে রাজিব বাসের রোড পারমিট বাতিলের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শেষে ইউএনও এবং ডিসি বরাবর লিখিতভাবে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
গণস্বাক্ষর দিতে আসা পথচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাজিব পরিবহন মুক্তাগাছায় কত মায়ের বুক খালি করেছে- তার হিসাব নেই। এখন লাগাম টেনে ধরার সময় এসেছে। রাজিব বাসের বিষয়ে সবাইকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, মুক্তাগাছায় সড়কে জনসাধারণের যাতায়াত নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগ এবং থানা পুলিশ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। কর্মসূচির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখলাম। নাগরিক অধিকার হিসেবে দাবি যে কেউ দাবি জানাতে পারেন। তাদের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৃষ্ণ চন্দ্র জানান, বিষয়টি শুনেছি। তবে লিখিতভাবে কোনো কিছুই এখনো জমা পড়েনি। লিখিতভাবে আবেদন পেলে তাদের দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
ময়মনসিংহ নগরীর বাইপাস পূর্ব গন্ড্রপা এলাকায় শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেপরোয়া গতির রাজিব বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ সাতজন নিহতের ঘটনা ঘটে।
প্রতিনিধি/এলএ