জেলা প্রতিনিধি
০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইউনিয়নের দামচাইল থেকে হাংমাড়া মসজিদসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
আহতরা হলেন- তারিফ (২০), সালমান (৪), বায়জিদ (১১), তারিন (১৬), আশরাফুল (১২), তসিবা (৯), রবিউল্লাহ (৪০), জামাল (৪৫), আব্দুল বাসার (৭০), নুর আলম (৪০), ইয়াসমিন (৩৫), তোফাজ্জল (১৭) ও সাফিয়া (৩২)। তাৎক্ষণিকভাবে অন্যদের নাম জানা যায়নি।
হাসপাতাল সূত্র ও আহতদের স্বজনরা বলছেন, বিকেল থেকে একটি পাগলা কুকুর খোলাপাড়া, রাজা খাঁ, দামরাইল, সাদেকপুর ও হাংমাড়া মসজিদসহ আশপাশের এলাকায় ঘুরে ঘুরে নারী, পুরুষ ও শিশুদের কামড়াতে থাকে। পরে স্থানীয় লোকজন হাংমাড়া মসজিদের সামনে কুকুরটিকে ঘেরাও করে পিটিয়ে মেরে ফেলেন। এরপর আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের জরুরিভিত্তিতে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জরুরি ভিত্তিতে ওআরটিসি বিভাগ খোলা হয়। সেখানে আহতদের মধ্যে ১০ থেকে ২০ জনকে র্যাবিক্স-ভিসি ও র্যাভিক্স-আইজি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।
অন্য আহতরাও হাসপাতালে এলে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আহত রফিকের ভাই মো. উলিউল্লাহ বলেন, খোলাপাড়া থেকে কুকুরটি দামচাইলের দিকে আসে। পথে কয়েকজনকে কামড়ানোর পর সাদেকপুরের দিকে যায়।
আহত তারিনের মা মিনু আক্তার বলেন, দামচাইলে কুকুরটি এসে আমার ছেলেকে কামড় দেয়। পরে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। তাকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের ওআরটিসি বিভাগের ইনচার্জ ফেরদৌসী বেগম বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৮০ জন রোগীকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। সাদেকপুরে কুকুরের কামড়ের ঘটনা জানার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জরুরিভিত্তিতে ওআরটিসি বিভাগ খোলা হয়। সেখানে ১০ থেকে ২০ জন রোগীকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। অন্য রোগীরা এলে তাদেরও প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।
কুকুরে কামড়ানো বা আঁচড়ের ক্ষতস্থান বাংলা সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে দ্রুত হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি কামরুল হাসান বলেন, সাদেকপুর থেকে একজন আমাকে ফোন করে জানান, ২০ থেকে ৩০ জনকে একটি কুকুর কামড় দিয়েছে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং দ্রুত জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী বলেন, ঘটনার পরপরই জরুরিভিত্তিতে ওআরটিসি বিভাগ খোলা হয়। আহত রোগীদের জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনের সরবরাহ রয়েছে। কুকুরে কামড়ালে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে এসে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
প্রতিনিধি/এলএ