Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

যাত্রীপ্রতি জ্বালানির খরচ বেড়েছে ৬০ পয়সা, ভাড়া বাড়ল ৫ টাকা

জেলা প্রতিনিধি

০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম

এলপিজির দাম লিটারপ্রতি ১২ টাকা বাড়লেও বরিশাল নগরীর গ্যাসচালিত থ্রি-হুইলারে যাত্রীপ্রতি পরিচালন ব্যয় বেড়েছে মাত্র ৬০ পয়সা। অথচ এই সুযোগে যাত্রীপ্রতি ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ৫ টাকা। অর্থাৎ জ্বালানির বাড়তি খরচের তুলনায় যাত্রীপ্রতি ভাড়া বাড়ানো হয়েছে আটগুণেরও বেশি। এতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে যাত্রীদের মধ্যে।

অন্যদিকে ছয় দিন ধরে চলা এলপিজি সংকটের পর নগরীর ১০টি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। তবে দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পরিবহন মালিক-চালকরা ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছেন। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের যাতায়াত ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।

নগরীতে অনুমোদিত প্রায় ২ হাজার ৬০০ গ্যাসচালিত থ্রি-হুইলার রয়েছে। চালকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাত থেকে প্রতি লিটার এলপিজির দাম ১২ টাকা বেড়ে ৮৫ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে।

সদর রোড থেকে রুপাতলী রুটে একটি থ্রি-হুইলারে এক লিটার গ্যাসে প্রায় চারটি ট্রিপ দেওয়া যায়। প্রতিটি ট্রিপে গড়ে পাঁচজন যাত্রী থাকেন। অর্থাৎ এক লিটার গ্যাসে প্রায় ২০ জন যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব। ফলে লিটারপ্রতি ১২ টাকা দাম বাড়লে শুধু জ্বালানির অতিরিক্ত খরচ হিসাবে যাত্রীপ্রতি বাড়ে প্রায় ৬০ পয়সা।

কিন্তু এ হিসাবের বিপরীতে সদর রোড-রুপাতলী রুটে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতে যাত্রীপ্রতি বাড়তি আদায় হচ্ছে ৫ টাকা। অর্থাৎ জ্বালানির বাড়তি ব্যয়ের তুলনায় আদায়ের পরিমাণ প্রায় ৮ দশমিক ৩ গুণ।

তবে চালকদের প্রতিদিনের গাড়িভাড়া আগের মতোই ৬৫০ টাকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন চালকরা। ফলে গাড়িভাড়া বাড়েনি, অথচ যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একইভাবে নথুল্লাবাদ-লঞ্চঘাট রুটেও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

সদর রোড-রুপাতলী রুটের চালক আবদুর রহমান বলেন, গ্যাসের দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। সবকিছুর খরচ বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের কাছ থেকে পাঁচ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।

তবে যাত্রীদের প্রশ্ন, জ্বালানির বাড়তি খরচ যেখানে ৬০ পয়সা, সেখানে পাঁচ টাকা বাড়ানোর যৌক্তিকতা কী? তাদের মতে, জ্বালানি বা অন্য কোনো পরিচালন ব্যয় বাড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হিসাব করে নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা উচিত। চালকরা নিজেদের মতো করে ভাড়া বাড়ালে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীকে বাড়তি অর্থ গুনতে হবে।

সদর রোড-রুপাতলী রুটের যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে খরচ যদি ৬০ পয়সা বাড়ে, তাহলে পাঁচ টাকা বেশি নেওয়া কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়। আমরা প্রতিদিন যাতায়াত করি। এভাবে ভাড়া বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।

CNG

আরেক যাত্রী আল মামুন বলেন, প্রতিদিন কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য থ্রি-হুইলার ব্যবহার করতে হয়। জ্বালানির দাম বাড়লে ভাড়া সমন্বয় হতে পারে, তবে তা হতে হবে যৌক্তিক ও কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত।

আরেক যাত্রী সানজিদা আক্তার বলেন, একবার পাঁচ টাকা বাড়লে একদিনে হয়তো বেশি মনে হয় না। কিন্তু মাস শেষে হিসাব করলে একজন নিয়মিত যাত্রীর কয়েকশ’ টাকা অতিরিক্ত চলে যায়। তাই ভাড়া বাড়ানোর আগে সাধারণ যাত্রীদের বিষয়টিও বিবেচনা করা দরকার।

১০ উপজেলাতেও বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ

এর আগে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পর বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চলাচলকারী মাহিন্দ্রাসহ ছোট যানবাহনেও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ওঠে। বরিশাল সদর ছাড়াও আগৈলঝাড়া, বাবুগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ, বানারীপাড়া, গৌরনদী, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ, মুলাদী ও উজিরপুরে বিভিন্ন রুটে যাত্রীপ্রতি ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন সড়ক ও নৌরুটের বাস ভাড়াও বেড়েছে।

চালকদের দাবি, জ্বালানি তেলের পাশাপাশি যন্ত্রাংশ, মেরামত, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। ফলে আগের ভাড়ায় যানবাহন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, সরকারি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে চালকরা নিজেদের মতো করে ভাড়া আদায় করছেন।

বরিশাল সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব ডা. মিজানুর রহমানের ‘জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত জ্বালানি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, চালকের মজুরি ও অন্যান্য ব্যয় হিসাব করে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করা। একই সঙ্গে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো দরকার।

ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) বরিশালের সহকারী পরিচালক আতিকুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

প্রতিনিধি/এফএ