জেলা প্রতিনিধি
০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে শহিদুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার কাছে ঝাড়ফুঁক করানোয় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে বিলম্ব হয় বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অ্যান্টিভেনম দেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শহিদুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত মফেজ মণ্ডলের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ২টার দিকে বাড়ির বাইরে থাকা বাথরুমে যাওয়ার সময় শহিদুলকে একটি বিষধর গোখরা সাপ কামড় দেয়। সাপের কামড়ে তিনি চিৎকার করলে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী তার পায়ে বাঁধন দেওয়া হয়।
এরপর তাকে হাসপাতালে না নিয়ে পাকুড়িয়া গ্রামের ইনারুল নামের এক ওঝার কাছে নেওয়া হয়। সেখানে ঝাড়ফুঁক করার পর ওঝা দাবি করেন, শহিদুলের শরীরে সাপের বিষ নেই। পরে তার পায়ের বাঁধন খুলে দিতে বলা হয়। বাঁধন খুলে দেওয়ার পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
পরিস্থিতি গুরুতর হলে স্বজনেরা তাকে দ্রুত দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। চিকিৎসা শুরুর আগেই তার মৃত্যু হয়।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ডা. কৌশিক আহমেদ বলেন, ভোরে শহিদুল ইসলাম নামে একজন সাপে কাটা রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হাসপাতালে আনার সময় তার অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন ছিল। তাকে হাসপাতালে আনতে বিলম্ব হয়েছিল। ফলে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
এর আগে, গত ২৭ আগস্ট রাতে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ঠোটারপাড়া গ্রামে সাগরিকা (২৬) নামে এক গৃহবধূকে সাপে কামড়ালে পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে স্থানীয় এক ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখানে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে বিলম্ব হওয়ায় তিনিও মারা যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শহিদুলের মৃত্যুর ঘটনায় সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।
প্রতিনিধি/এসএস