জেলা প্রতিনিধি
০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
পঞ্চগড় সদর উপজেলায় রাতের আঁধারে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে ১১টি ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিদ্যালয়ের একটি সাউন্ড সিস্টেম ও সততা স্টোরে রাখা কিছু টাকাও নিয়ে গেছে চোরেরা। তবে চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি স্ক্রু ড্রাইভার রেখে গেছে তারা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের বুড়িরবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ চুরির ঘটনা ঘটে। রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষ এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান শিক্ষকরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চুরির সময় টেবিলের ওপর উঠে ফ্যান খুলে নেওয়া হয়েছে। এতে টেবিলে জুতার স্পষ্ট ছাপ পাওয়া গেছে। তবে কাঠের আলমারিতে রাখা ল্যাপটপ ও একটি প্রজেক্টরের সরঞ্জাম অক্ষত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বিদ্যালয়ের মূল কেচিগেট অক্ষত রেখেই বারান্দার গ্রিল ব্যবহার করে চোরেরা দোতলায় উঠে ফ্যানগুলো খুলে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, সকালে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ফ্যানের সুইচ দিলেও ফ্যান ঘোরেনি। পরে ওপরে তাকিয়ে তারা দেখতে পায়, কক্ষের ফ্যানগুলো নেই। প্রচণ্ড গরমে ফ্যান ছাড়া ক্লাস করতে তাদের কষ্ট হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রমেন চন্দ্র রায়ের বাবা বলেন, সকালে ছেলেকে বিদ্যালয়ে দিতে এসে ১১টি ফ্যান চুরির কথা জানতে পারেন। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানান।
বুড়িরবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশীদ বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে বিদ্যালয়ে এসে তালা খুলে অফিসকক্ষ এলোমেলো দেখতে পান। টেবিলে জুতার ছাপও ছিল। পরে চারটি কক্ষে গিয়ে ১১টি ফ্যান না থাকার বিষয়টি জানতে পারেন। এ ছাড়া সাউন্ড সিস্টেম ও সততা স্টোরে রাখা কিছু টাকাও চুরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ছুটির পর বিদ্যালয় ফাঁকা হয়ে যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে কয়েক দিন ধরে সন্ধ্যার পর বিদ্যালয়ের আশপাশে কিছু লোকের আড্ডা ও মাদক সেবনের কথা শুনেছেন। তবে কারা চুরির সঙ্গে জড়িত, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় এখনো থানায় অভিযোগ করা হয়নি। বিষয়টি সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস