Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

বারান্দার পাশে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইন, দগ্ধ ২ শিশু

জেলা প্রতিনিধি

০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৪ এএম

চাঁদপুর শহরে বাসার বারান্দায় খেলতে গিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সংস্পর্শে এসে ফাইজা আক্তার (৬) ও মো. সাব্বির (৪) নামে দুই শিশু দগ্ধ হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তাদের প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ২টার দিকে শহরের নিউ ট্রাক রোড এলাকার আরএস টাওয়ারের পঞ্চম তলার পশ্চিম পাশের একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।

দগ্ধ দুই শিশু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে এসে দুর্ঘটনার শিকার হয়। ফাইজা লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থানার মৃত মো. ফরহাদের মেয়ে। আর সাব্বির একই এলাকার মো. সুমন মিয়ার সন্তান।

দুই শিশু যে বাসায় বেড়াতে এসেছিল, সেটির ভাড়াটিয়া প্রবাসী সোহেল দেওয়ান। তিনি বর্তমানে প্রবাসে থাকেন। তার স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার সন্তানদের নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করেন। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার কালিবাজার এলাকায়। প্রায় আড়াই বছর ধরে তারা ওই বাসায় ভাড়া থাকছেন।

ইয়াছমিন আক্তার জানান, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তার দুই খালাতো বোন বেড়াতে আসেন। তাদের সঙ্গে শিশুরাও ছিল। একপর্যায়ে দুই শিশু খেলতে বারান্দায় যায়। কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দ শুনে তারা বারান্দায় গিয়ে দুই শিশুকে দগ্ধ ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। ইয়াছমিনের ধারণা, শিশুরা হাতে থাকা লোহার মতো কোনো পাইপের মাধ্যমে পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সংস্পর্শে এলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ফ্ল্যাটটির বারান্দার খুব কাছ দিয়েই ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন চলে গেছে। তবে ওই লাইন থেকে নিরাপত্তার জন্য বারান্দার পাশে কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।

এ বিষয়ে বাড়ির মালিক রাসেল মিয়ার বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার বাসায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসিবুল হাসান বলেন, দগ্ধ দুই শিশুকে তিনি নিজেই চিকিৎসা দিয়েছেন। ফাইজার শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে। অন্য শিশুটির শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুই শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না। ঘটনার সময় তিনি থানার বাইরে কাজে ছিলেন। পরে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত)-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

প্রতিনিধি/এজে