জেলা প্রতিনিধি
০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম
ঘুষের টাকা না দেওয়ায় যশোরের চৌগাছা উপজেলার গুয়াতলী গ্রামের বিএনপি কর্মী রবিউল ইসলামকে আওয়ামী লীগের নেতা বানিয়ে নাশকতা মামলায় গ্রেফতার করার অভিযোগ উঠেছে। বাড়ি থেকে ডেকে থানায় নিয়ে আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছে অভিযোগ করেছেন তার ছেলে মো. আলামিন।
এ ঘটনায় চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রহমানসহ পুলিশের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আলামিন।
অভিযোগের সঙ্গে রবিউল ইসলামকে বিএনপির সক্রিয় কর্মী বলে জানিয়েছেন নারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তরিকুল ইসলাম ডাবলু ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম। তারা উপজেলা বিএনপির প্যাডে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন।
তবে আলামিনের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি মামুনুর রহমান।
লিখিত অভিযোগে আলামিন উল্লেখ করেন, তার বাবা রবিউল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি চৌগাছা উপজেলার ১০ নম্বর নারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অতীতেও তাদের পরিবার বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত শুক্রবার (১ অক্টোবর) রাত সোয়া ১১টার দিকে চৌগাছা থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য রবিউল ইসলামকে বাড়ি থেকে ডেকে থানায় নিয়ে যান। সেখানে ওসি তার কাছে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে থানায় আটকে রাখা হয়। পরে ওই রাতেই তাকে একটি নাশকতা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
আলামিন বলেন, ওসি মামুনুর রহমানের নির্দেশে এএসআই কাজল, এসআই বিল্লাল, এএসআই মিকাইল ও এএসআই জাকির তার বাবাকে বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যান। পরে রবিউলকে ছাড়িয়ে নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় যোগাযোগ করা হলে পুলিশের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
আলামিন আরও অভিযোগ করেন, তার বাবা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পরও তাকে আওয়ামী লীগের কমিটির সদস্য হিসেবে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের দমন করতেই এমনভাবে রাজনৈতিক পরিচয় বদলে মামলা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তার।
নারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তরিকুল ইসলাম ডাবলু প্রত্যয়নপত্রে বিষয়ে বলেন, রবিউল ইসলাম বিএনপির সক্রিয় সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে দলটির সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অতীতেও তার পরিবার বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছে।
চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম বলেন, রবিউল আওয়ামী লীগের সাথে না; বরং বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তার পরিবার বিএনপির রাজনীতি করেন। চৌগাছা ওসি আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত। তিনি চৌগাছা বিএনপিকে পরিকল্পতিভাবে ধ্বংস করার জন্য এ ধরণে কর্মকাণ্ড করতে পারেন।
অভিযোগের বিষয়ে চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রহমান বলেন, রবিউল আওয়ামী লীগের কমিটির সদস্য। তাকে বিশেষ অভিযানে আটক করে আইন অনুযায়ী আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও বিএনপির কর্মীকে আওয়ামী লীগের নেতা সাজিয়ে মামলা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি।
প্রতিনিধি/এলএ