Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

কলাতলী গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা

জেলা প্রতিনিধি

০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

কক্সবাজারের পর্যটন নগরীর ব্যস্ততম কলাতলী প্রধান সড়কের দুপাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগ। 

শনিবার (৩ অক্টোবর) দিনভর চলা অভিযানে বাস কাউন্টার, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ অর্ধশতাধিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সড়কের দুপাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রায় ছয় একর জমি দখল করে এসব স্থাপনা গড়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 

কলাতলী মোড় থেকে জেলা কারাগার গেট পর্যন্ত সড়কের একপাশে একের পর এক অবৈধ স্থাপনায় বুলডোজার চালানো হয়। দূরপাল্লার বাসের কাউন্টার, খাবারের দোকান, হোটেল ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাদ যায়নি কোনো ধরনের স্থাপনাই। এতে দীর্ঘদিন ধরে দখল হয়ে থাকা সড়কের জায়গা অনেকটাই উন্মুক্ত হতে শুরু করেছে। 

S

জেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শনিবার সকালে এ অভিযান শুরু হয়। তবে কয়েকটি স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে মালিকদের পক্ষ থেকে আপত্তি ও সময় চাওয়ার কারণে সেখানে কিছুটা জটিলতা দেখা দেয়। পরে সংশ্লিষ্টদের স্থাপনা সরিয়ে নিতে সময় দেওয়া হয়। 

অভিযানে উচ্ছেদ হওয়া কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, তাদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। এমনকি উচ্ছেদের বিষয়ে আগে থেকে মাইকিং বা যথাযথভাবে জানানো হয়নি বলেও দাবি করেন তারা। 

দোকানি ছৈয়দ নুর বলেন, ‘মাত্র এক মাস আগে অনেক কষ্ট করে, এমনকি বোনদের স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে দোকানটি দিয়েছি। এখনো ঠিকমতো ব্যবসা শুরু করতে পারিনি। সকাল থেকে এক টাকার পণ্যও বিক্রি হয়নি। এর মধ্যে শুনছি দোকানটি ভেঙে দেওয়া হবে। আমাদের আগে থেকে এ বিষয়ে কিছু জানানোও হয়নি। 

তিনি বলেন, দোকানটি ভেঙে দিলে বোনদের স্বর্ণালংকারের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব, সেটাই বুঝতে পারছি না। এখানেই পরিবার নিয়ে থাকি। দোকানটি ভেঙে দিলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, আমার আর কোনো আয়-রোজগারের পথও নেই।’ দোকানটিতে ছোট পরিসরে ভাতের হোটেল পরিচালনা করতেন বলেও জানান তিনি। 

S

অন্যদিকে, কলাতলী প্রধান সড়কের দুপাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। 

তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের জায়গা দখল করে দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় পর্যটকদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। উচ্ছেদ অভিযান পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে যানজট কমার পাশাপাশি পর্যটকদের চলাচলও সহজ হবে। 

পর্যটন ব্যবসায়ী শহিদুল ইমরান বলেন, ‘প্রধান সড়কের দুপাশে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় পর্যটকদের চলাচলে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এতে পর্যটন ব্যবসায়ীরাও নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। এখন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করায় পর্যটকদের চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে। এ উদ্যোগের জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। 

প্রশাসন জানিয়েছে, বাস টার্মিনাল থেকে কলাতলী মোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার প্রধান সড়কের দুপাশ পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করা হবে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হাসান নাঈম বলেন, জেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান চালানো হচ্ছে। মহাসড়ক আইনের বিধান অনুযায়ী, সড়কের দুই পাশে ১০ মিটার পর্যন্ত জায়গা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন। তাই সওজের জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

S

তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন কক্সবাজার নগরী গড়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এ অভিযান চালানো হচ্ছে। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কলাতলী মোড় থেকে জেলা কারাগার গেট হয়ে পুনরায় কলাতলী মোড় পর্যন্ত অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। কলাতলী থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান পর্যায়ক্রমে লিংক রোড পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। 

কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দীক বলেন, জাতীয় মহাসড়ক আইনের বিধান অনুযায়ী, সড়কের রাইট অব ওয়ে থেকে দুই পাশে ১০ মিটার পর্যন্ত জায়গায় কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হলে সেটি অবৈধ স্থাপনা হিসেবে গণ্য হয়। 

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে আগে থেকেই পর্যাপ্ত মাইকিং ও গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও সড়ক ও জনপথের জায়গায় গড়ে ওঠা স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। 

প্রতিনিধি/এএইচ