০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
দুই হাতে প্রতিবন্ধকতা। স্বাভাবিকভাবে অনেক কাজ করাই তাঁর জন্য কঠিন। তবু জীবনের প্রতিকূলতার কাছে হার মানেননি জোহরা খাতুন। প্রায় ২৫ বছর ধরে স্বামী রশিদের সঙ্গে চায়ের দোকানে কাজ করে সংসারের হাল ধরে রেখেছেন তিনি।
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের জোহরা খাতুন ও রশিদের দাম্পত্যজীবন প্রায় ৪০ বছরের। দীর্ঘ এই পথচলায় অভাব-অনটন এসেছে, নানা প্রতিকূলতাও পেরোতে হয়েছে। কিন্তু একে অপরের পাশে থেকে দুজনই সামলেছেন সংসার। জোহরার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁদের পথ থামাতে পারেনি; বরং স্বামীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেই জীবনের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর ঘুম থেকে ওঠেন জোহরা। এরপর চলে যান স্বামীর চায়ের দোকানে। সেখানে চা তৈরি, ক্রেতাদের চা দেওয়া এবং দোকানের বিভিন্ন কাজে স্বামীকে সহযোগিতা করেন।
বেলা ১২টার দিকে বাড়ি ফিরে রান্নাসহ ঘরের কাজ করেন। স্বামীর জন্য খাবার তৈরি করে আবারও চলে আসেন দোকানে। দুপুরের পর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত স্বামীর সঙ্গে দোকানে কাজ করেন তিনি।
দুই হাতে প্রতিবন্ধকতা থাকায় কাজ করতে নানা সমস্যায় পড়তে হয় জোহরাকে। তবে এসব কারণে সংসারের দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি তিনি।
জোহরা খাতুন বলেন, কাজ করেই নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করছেন।
‘আমরা কারও কাছে হাত পেতে খাই না। আমার দুই হাত প্রতিবন্ধী। তারপরও আমি আমার স্বামীর সঙ্গে কষ্ট করে সংসার চালাই। আমার স্বামী আমাকে দেখে কখনো ঘৃণা করে না। আমরা দুজন দুজনকে নিয়ে বেঁচে আছি।’
জোহরার কথায় নিজের কষ্টের পাশাপাশি স্বামীর প্রতি তাঁর আস্থার কথাও উঠে আসে।
দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
স্বামী রশিদও দীর্ঘদিন ধরে চায়ের দোকান চালিয়ে আসছেন। সংসারের প্রয়োজনে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করেন তিনি। দুজনের আয় দিয়েই চলে তাঁদের সংসার।
স্থানীয় একজন রাজনৈতিক প্রতিনিধি তাঁদের জীবনসংগ্রামের কথা জানতে পেরে বলেন, জোহরা ও রশিদের মতো অসচ্ছল মানুষের পাশে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহযোগিতা করা গেলে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।
জোহরার জীবনে বিশ্রামের সুযোগ খুব কম। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজের মধ্যেই কাটে তাঁর দিন। ঘরের কাজ শেষ করে আবার দোকানে যেতে হয়। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে চলছে তাঁদের সংসার।
প্রায় ২৫ বছর ধরে চায়ের দোকানে কাজ করার পাশাপাশি প্রায় ৪০ বছরের সংসারও ধরে রেখেছেন জোহরা ও রশিদ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁদের জীবনকে কঠিন করেছে, কিন্তু সংসারের দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে দেয়নি।
জোহরা বলেন, তিনি কারও করুণা চান না। স্বামীর সঙ্গে কাজ করে সম্মানের সঙ্গে সংসার চালিয়ে যেতে চান।
প্রতিনিধি/এএম