Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

সোমবার এনসিটি ও সিসিটি রক্ষায় বন্দর রক্ষা কমিটির অবস্থান কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১১ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) রক্ষায় ইজারা বাতিলসহ চার দফা দাবিতে আগামী সোমবার (৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান ফটকে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু ও অন্যান্য শ্রমিক নেতারা এই কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে দলমত নির্বিশেষে চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সদস্যসচিব অভিযোগ করেন, গত ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অত্যন্ত কৌশলগত ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সংক্রান্ত প্রস্তাবটি মূল এজেন্ডায় না রেখে বিবিধ এজেন্ডায় উপস্থাপন ও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সরকারের এ ধরনের তাড়াহুড়ো সিদ্ধান্ত গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে এনসিটি পরিচালনার রাষ্ট্রীয় আয়, সক্ষমতা বৃদ্ধি, অটোমেশন প্রযুক্তি এবং আর্থিক সুবিধার একটি স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তুলনামূলক মূল্যায়ন জনগণের সামনে প্রকাশ করা জরুরি। এছাড়া ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের সঙ্গে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের ২২ বছরের চুক্তির অভিজ্ঞতাও পর্যালোচনা করা আবশ্যক।

নেতারা স্পষ্ট করেন, তারা বিদেশি বিনিয়োগ বা আধুনিক প্রযুক্তির বিরোধী নন। তবে বন্দরের পরিচালনা দীর্ঘমেয়াদে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা, রাজস্ব, কর্মসংস্থান এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি অগ্রগণ্য। ইতোমধ্যে কালো ও লাল পতাকা মিছিল, মশাল মিছিল, বিক্ষোভ এবং প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করার পরও সরকারের থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে তারা জানান।

বন্দর রক্ষা কমিটির পক্ষে চার দফা প্রধান দাবি পেশ করা হয়:

১. এনসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ডের প্রস্তাবিত ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করা।

২. সিসিটি ইজারা দিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পাঠানো নির্দেশনামূলক চিঠি প্রত্যাহার করা।

৩. অন্তর্র্বতী সরকারের সময় বন্দর শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা বাতিল করা।

৪. আন্দোলনরত শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের ওপর যেকোনো প্রকার প্রশাসনিক হয়রানি ও শাস্তিমূলক বদলি সম্পূর্ণ বন্ধ করা।

ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে সরকার তাদের দাবি বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ না নিলে ওই দিন বন্দরের প্রধান ফটকের দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি থেকেই পরবর্তী বৃহত্তর কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, সভাপতি এস কে খোদা তোতন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, টিইউসি জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, স্কপ চট্টগ্রামের যুগ্ম সমন্বয়ক রবিউল হক শিমুল ও খোরশেদ আলম, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন ও সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম।

এছাড়া জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহীম ফরাজী, বিএফটিইউসির যুগ্ম সম্পাদক রিজওয়ানুর রহমান খান, ডক শ্রমিক দল নেতা আব্দুর রউফ লিটন এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকীসহ একাধিক শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এতে অংশগ্রহণ করেন।

এএইচ