Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

মধুমতির ভাঙনে দিশাহারা নদীপাড়ের মানুষ

০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়ন এবং লোহাগড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে মধুমতি নদী ভাঙ্গণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদী পাড়ের শত শত মানুষ। গত দুই সপ্তাহে লোহাগড়া ও কোটাকোল ইউনিয়নে মধুমতি নদী ভাঙনের তীব্রতা আকার ধারণ করেছে। 

এছাড়া জয়পুর ইউনিয়নের আমডাঙ্গা এলাকায়ও ভাঙ্গন দেখা গেছে। মধুমতি নদীর পাড়ে বসতবাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এ সময়ের মধ্যে ফসলি জমি, গ্রামীণ সড়ক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মধুমতি নদীতে চলে গেছে। তবে ঝুকির মধ্যে রয়েছে আরও কয়েকশত পরিবার। 

S

স্থানীয়দের দাবি, এক সময় এসব এলাকায় প্রায় পাঁচশতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি ছিল। মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙনে এসব পরিবারের অনেকের ঘরবাড়ি বাপ দাদার কবর ও ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নিঃস্ব হয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের তীব্রতা এবছর আরও বেড়েছে। মধুমতি নদী ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ স্থানীয় প্রশাসনকে দূষছেন। তারা অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদী ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। 

S

সরেজমিন দেখা গেছে, মধুমতি নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে লোহাগড়া ইউনিয়নের ছাগলছিড়া গ্রামের মিন্টু মোল্যা, ইসলাম ফকির, আলিম মোল্যা, আহাদ মোল্যা, নজরুল শেখ, আমিনুর আলী, হাই মোল্যা, রসুল মোল্যা এবং কোটাকোল ইউনিয়নে রায়পাশা গ্রামের মির্জা খাঁ, রেজন খাঁ, রহিমন বেগম, খলিল কাজী, শাহিন শিকদার, জাফর খাঁ ও মান্নান মোল্যাসহ আরও অনেক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানান। 

লোহাগড়া ইউনিয়নের ছাগলছিড়া গ্রামের মিন্টু মোল্যা বলেন, রাতের বেলার ভাঙ্গণে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়। তখন কিছুই দেখা যায় না। কোথায় যাবো কী করব কিছুই বুঝে উঠতে পারি না। আমরা গরিব মানুষ। টাকাপয়সাও নেই, যে অন্য জায়গায় সরে গিয়ে ঘর তুলব। নদী ভাঙ্গণ রোধে কেউ আমাদের খোঁজখবর রাখে না। 

S

কোটাকোল ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের রহিমন বেগম বলেন, আমাদের কয়েক বিঘে মাঠাম জমি মধুমতি নদীগর্ভে চলে গেছে। আগে দুইবার বাড়ি ভাঙিছে। কষ্ট করে নতুন বাড়ি করিছি। নতুন বাড়িও ভাঙার মুখে পড়েছে। নদী ভাঙ্গনে এলাকার মানুষরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। 

লোহাগড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ইজারাকৃত বালুমহাল বন্দোবস্তের বাইরে কোনো ইজারাদার বালু উত্তোলণ করলে তার ইজারা বাতিল করা হবে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহকারি কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

S 

নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, নিয়ম না মেনে বালু উত্তোলন করার কারণে নদী পাড়ের লোকজনের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তবে প্রকল্পের বাইরে আমরা কাজ করতে পারি না। 

তিনি আরও বলেন, নিয়ম বর্হিভূতভাবে বালু উত্তোলন করার কারণেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। 

প্রতিনিধি/এএইচ