জেলা প্রতিনিধি
০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ছোট ভাইয়ের হাসুয়ার কোপে বড় ভাই রাসেল হোসেন (২৬) নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে পরিবারের দাবি, বাঁশ কাটতে গিয়ে হাতে থাকা হাসুয়ার আঘাতে পায়ে গুরুতর জখম হন রাসেল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দুই ভাইয়ের বিরোধের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের সোনাইকুণ্ডি গ্রামের তাজপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাসেল হোসেন ও তার ছোট ভাই ইমরান হোসেন ওই এলাকার আহাদ আলীর ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ছোট ভাই ইমরানের হাসুয়ার আঘাতে বড় ভাই রাসেল গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই বিকেলে পথেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মা রাশেদা খাতুন বলেন, বাঁশ কাটতে গিয়ে হাতে থাকা হাসুয়ার আঘাতে আমার বড় ছেলের পা গুরুতর জখম হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তার দাবি, বড় ছেলে নেশাগ্রস্ত ছিল। এ কারণে দুর্ঘটনার পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়ে থাকতে পারে। তবে ছোট ছেলে ইমরানের আঘাতে রাসেল আহত হওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছোট ছেলে ইমরানই পরিবারের দেখাশোনা ও উপার্জনের দায়িত্ব পালন করেন।
হোগলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, এলাকায় বড় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থাকায় পাড়ার অধিকাংশ মানুষ সেখানে কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ফলে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাঁশ কাটতে গিয়ে হাসুয়ার আঘাতে রাসেল আহত হন। তবে স্থানীয়ভাবে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের জেরেও এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই নিহত হওয়ার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাসেলের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, বাঁশ কাটার সময় হাত থেকে হাসুয়া ছুটে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। তবে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন হওয়ার তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। মরদেহ বাড়িতে আসার পর পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানা যাবে।
প্রতিনিধি/এলএ