জেলা প্রতিনিধি
০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম
নির্মাণের তিন বছরের মাথায় শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর মাছবাজার এলাকায় পদ্মা নদীর তীররক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাটল দেখা দেওয়ার এক দিনের মধ্যেই বাঁধের প্রায় ২০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সুরেশ্বর মাছবাজার এলাকায় বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশে ফাটল দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে ফাটল ধরা অংশের প্রায় ২০ মিটার পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়।
বাঁধের বাকি অংশও ধসে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনেকে দোকানের মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। বাঁধের ক্ষতি আরও বাড়লে সুরেশ্বর মাছবাজারসহ আশপাশের জনবসতি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সুরেশ্বর মাছবাজার নদীতীরবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী, জেলে ও সাধারণ মানুষের সমাগম হয় এখানে। বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ার পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাঁধের একটি অংশ নদীতে বিলীন হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। নদীভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে, ২০২৩ সালে নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর মাছবাজার থেকে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর পর্যন্ত পদ্মা নদীর ডান তীরে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হয় প্রায় ১ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা।

নির্মাণের তিন বছরের মাথায় বাঁধের একটি অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ফাটলের খবর পেয়ে নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন ও শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিল্টন হোসেন বলেন, বুধবার সুরেশ্বর মাছঘাট এলাকায় নদীতীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশে ফাটল দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ফাটল দেখা দেওয়া অংশের প্রায় ২০ মিটার নদীতে তলিয়ে যায়। খবর পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এদিকে, বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত রক্ষা করা না গেলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।
প্রতিনিধি/এসএস