Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

হাতিয়ায় বাড়ছে হামের প্রকোপ, হাসপাতালের বারান্দা-মেঝেতেও মিলছে না ঠাঁই

উপজেলা প্রতিনিধি

০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম আক্রান্ত শিশু রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ওয়ার্ড, কেবিন এমনকি হাসপাতালের বারান্দায়ও জায়গা মিলছে না। বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন রোগীদের কষ্ট বাড়ছে, অন্যদিকে হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা।

এ সংকটের মধ্যেই বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ৩ মাসের শিশু ফাতেমাকে নিয়ে এসেছেন উপজেলার সাগুরিয়া এলাকার হেলাল উদ্দিন। 

হেলাল দম্পতি শিশুটিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর প্রথমে হামের ওয়ার্ডে জায়গা পাননি। তখন কেবিন কিংবা বারান্দায়ও হামের রোগী ভর্তি। পরে অন্য এক রোগী চলে গেলে শিশুটি সিট পায়। 

হেলাল উদ্দিন বলছিলেন, তিন দিন আগে আমার মেয়ে শিশুটি অসুস্থ হওয়ার পর প্রথমে পল্লী ডাক্তার এবং ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাক্তারের চিকিৎসা নেওয়া হয়েছে। তারা জানিয়েছেন শিশুটি হামে আক্রান্ত- পরে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি।

তিনি জানান, হাসপাতালে আসার পর সার্বিক অবস্থা দেখে আমরা খুব হতাশ হয়েছি। একদিকে সিটের সমস্যা, অন্যদিকে দুর্গন্ধে আমরা নিজেরাও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। 

বাচ্চাকে হামের টিকা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাচ্চা জন্মের পর যেসব টিকা দেওয়া হয়- সেগুলো তো দিয়েছি। কিন্তু হামের টিকা সংক্রান্তে আশপাশে কোনো মাইকিং কিংবা প্রচারণা শুনিনি।

শুধু ফাতেমা নয়,  অন্যান্য রোগীর পাশাপাশি প্রতিদিন নতুন নতুন হাম আক্রান্ত শিশু রোগী আসছে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটিতে। 

রেহানা নামে এক নারী তার দেড় বছর বয়সী নাতনিকে নিয়ে মেজেতে বসে আছেন। সেবা পেতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সকালে ডাক্তার এসে ঘুরে গেছেন, আমার নাতনিকে দেখেননি! তারাও হামের টিকার প্রচারণা শুনেননি বলে জানান। 

এ বছরের মার্চ মাস থেকে দেশে হামের সংক্রমণ ও প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পায়। জুন মাসের পর থেকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলাতে এর বিস্তার ঘটতে শুরু করে। এ পর্যন্ত যতগুলো হাম আক্রান্ত শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে স্থানান্তর করা হয়- তাদের অনেকে সুস্থ হয়ে উঠলেও গেল মাসে একজন শিশুর মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেন হাসপাতালের নার্স ইনচার্জ তিথী মণ্ডল।

তিনি বলেন, সিট নেই। যে পরিমাণ রোগী আসছে, আমরা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছি। রোগীর স্বজনরা ভিড় করছেন এবং অনেক সময় কাউন্সেলিং শুনছেন না। এতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা হচ্ছে। তাদের মাধ্যমে রোগের প্রাদুর্ভাব আরও বাড়তে পারে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সাধারণ রোগীদের পাশাপাশি হামে আক্রান্ত ৩৪ জন শিশু রোগী ভর্তি রয়েছে। হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য যে ওয়ার্ডটি ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি একসময় করোনা রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। সেখানে মাত্র ১৫টি সিট রয়েছে।

হাম সংক্রমণ ও সিট সংকটের বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শেখ মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, আগে হামের প্রভাব আরও বেশি ছিল। বরং এখন কমছে। সামনে আরও কমে আসবে। 

সিট সংকটের কারণে কিছু সমস্যা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। 

স্থানীয়দের দাবি, হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার পাশাপাশি সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতা, টিকাদান বিষয়ে প্রচারণা, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও শয্যা নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রতিনিধি/এলএ