জেলা প্রতিনিধি
০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
বাবা নেই, ভাইয়েরা সবাই বিদেশে। তাদের সহযোগিতায় অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করে বিসিএসের স্বপ্ন দেখেছিলেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের মো. সাজ্জাদ হোসেন। ৪৯তম বিসিএসে মেধাক্রমে ৩০তম হয়ে সেই স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত গেজেটে নাম না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তিনি। নিজের বাদ পড়ার কারণ জানতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এই প্রার্থী।
সাজ্জাদ হোসেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে তার মেধাক্রম ছিল ৩০তম।
বুধবার ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর তালিকায় নিজের নাম না থাকার বিষয়টি জানতে পারেন সাজ্জাদ। এর আগে তিনি নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ছিলেন।
সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কোনো রাষ্ট্রদ্রোহী বা ফৌজদারি মামলা বা অভিযোগ নেই। এছাড়া আমার পরিবারের কেউ কোনো ধরনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় নেই। আমি আমার জীবদ্দশায় কখনো কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের সংস্পর্শে ছিলাম না।’
তিনি বলেন, ‘এতটা স্বচ্ছ থাকার পরও আমি ৪৯তম বিসিএসের গেজেট থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমার মতো গোপালগঞ্জ জেলার আরও আটজন গেজেট থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাদের অনেককেই আমি চিনি ও জানি, তারা কেউই রাষ্ট্রদ্রোহী বা ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত নন।’
নিজের জীবনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে সাজ্জাদ বলেন, ‘আমি অনেক কষ্ট করে আজ এই পর্যন্ত পৌঁছেছি। আমার বাবা বেঁচে নেই। আমার ভাইয়েরা সবাই বিদেশে থাকে। তারা আমাকে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছে।’
গেজেট প্রকাশের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর হতাশার কথাও জানান সাজ্জাদ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও স্বপ্নের পর এমন পরিস্থিতি তার জন্য অত্যন্ত কষ্টের।
সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে আরও সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’ তার দাবি, কী কারণে তাকে চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হোক এবং যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধন করা হোক।
তিনি বলেন, ১২ অক্টোবরের মধ্যে চাকরিতে যোগদানের বিষয়ে নিশ্চিত হতে চান। একই সঙ্গে নিজের এবং বাদ পড়া অন্য প্রার্থীদের বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
এদিকে ৪৯তম বিসিএসের বিশেষ পরীক্ষায় সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ৬৬৮ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে সুপারিশ করেছিল। চূড়ান্ত গেজেটে ৬১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রাথমিকভাবে সুপারিশ পাওয়া ৫৭ জন প্রার্থী চূড়ান্ত গেজেটে স্থান পাননি।
চূড়ান্ত গেজেটে এসব প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার পৃথক কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে নিজেদের বাদ পড়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সাজ্জাদ হোসেনও এখন সেই কারণের সুষ্ঠু ব্যাখ্যা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।
প্রতিনিধি/এলএ