জেলা প্রতিনিধি
০১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০১ পিএম
নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় শহীদ জিয়া হলের নির্মাণকাজ শুরুর আগে সয়েল টেস্ট চলাকালে শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ইমন নামের এক শ্রমিককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। হামলাকারীরা শ্রমিকদের মুঠোফোন, টাকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার সকালে জিয়া হলের সয়েল টেস্টের কাজ চলাকালে কয়েকজন সেখানে এসে শ্রমিকদের হুমকি-ধমকি দেন। এরপরও শ্রমিকেরা কাজ চালিয়ে গেলে রাতে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা এক শ্রমিককে কুপিয়ে আহত করে এবং শ্রমিকদের সঙ্গে থাকা মুঠোফোন, টাকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর ৫০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান হাসপাতালে গিয়ে আহত শ্রমিকদের খোঁজখবর নেন।
এ সময় সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘জিয়া হলের নির্মাণকাজের জন্য সয়েল টেস্ট হচ্ছে। সেই সয়েল টেস্টের সময় একটা গ্রুপ সেখানে আক্রমণ করেছিল। সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে রাত সাড়ে ৯টার পরে। জিয়া হলে যারা কাজ করছিল, সেই শ্রমিকদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের পাঁচজনের মুঠোফোন নিয়ে গেছে এবং কুপিয়ে আহত করেছে। তাদের মালামাল নিয়ে গেছে। তাদের খুবই খারাপ অবস্থা। তারা এখন ৫০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পুলিশের কাছে আবেদন করব, দ্রুত যেন এই আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। এই ছিনতাইকারীদের গ্রেগতার না করা হলে কাজটা সম্ভব হবে না। আমার মনে হয়, ষড়যন্ত্র করে জিয়া হলের কাজটাকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য এটা করা হচ্ছে।’
ওয়ার্ডটির সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা শওকত হাসেম শকু বলেন, রাতে সাড়ে ৯টার দিকে শ্রমিকেরা খাবার খেতে গেলে রাইফেলস ক্লাবের ভেতর দিয়ে জিয়া হলে প্রবেশ করে হামলাকারীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় শ্রমিকদের মুঠোফোন ও টাকা লুট করা হয়।
শওকত হাসেম শকুর ভাষ্য, ইমন নামের এক শ্রমিক দুই হামলাকারীকে ধরে ফেললে তার দুই হাতে কোপ দেওয়া হয়। এক হাতে ২৫টি এবং অন্য হাতে পাঁচটি সেলাই দিতে হয়েছে।
খানপুর ৫০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল বাশার জানান, আহতদের মধ্যে ইমন নামের একজনের দুই হাতে সেলাই দিতে হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান বলেন, আহত শ্রমিকেরা থানায় এসেছেন এবং তারা মামলা করবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেব না। হামলায় জড়িত সবাইকে ধরা হবে।’
প্রতিনিধি/এসএস