জেলা প্রতিনিধি
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪০ পিএম
এক মাসে বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে ২৩৫ ইউনিট। কিন্তু বিলের কাগজে টাকার অঙ্ক দেখে যে কারও চোখ ছানাবড়া হওয়ার মতো-৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। মাগুরার এক গ্রাহকের নামে এমন বিল তৈরি করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। বিল দেখে রীতিমতো আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন ওই গ্রাহক। পরে বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, মিটার পরিবর্তনের পর সিল নম্বরের অঙ্ক ভুল করে ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হওয়ায় এই বিল তৈরি হয়েছিল।
অবিশ্বাস্য ও অস্বাভাবিক এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে চলতি মাসের এই বিল ইস্যু করা হয়। আলেয়া ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী।
বিলের কপিতে দেখা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ৩৯৫ এবং ৮ আগস্টের পূর্ববর্তী রিডিং ১৬০। সে হিসেবে এক মাসে ওই গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে মাত্র ২৩৫ ইউনিট। অথচ এই বিদ্যুতের বিপরীতে ডিমান্ড চার্জ দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাটসহ মোট বিল দাঁড়িয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ তা বেড়ে দাঁড়াবে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা।
অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিপরীতে গ্রাহকের প্রকৃত বিল হওয়ার কথা মাত্র এক হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ যার পরিমাণ দাঁড়ায় দুই হাজার ৫৬ টাকা।
বিলটি ১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা হয় এবং পরিশোধের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২৯ সেপ্টেম্বর। সেখানে গ্রাহকের সংযোগের ধরন হিসেবে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ উল্লেখ রয়েছে।
অস্বাভাবিক বিল প্রসঙ্গে গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন বলেন, ‘এটি শুধু ভুতুড়ে বিল নয়, বরং অবিশ্বাস্য একটি বিষয়। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন ভুলের কারণে গ্রাহকদের অযথা দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনার প্রতিকার হওয়া প্রয়োজন।’
শালিখা উপজেলার চুকিনগরে অবস্থিত মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের পর যান্ত্রিক ও অসাবধানতাবশত মিটারের সিল নম্বরের অঙ্কগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যাওয়ায় এই বিশালাকার অঙ্কের বিল তৈরি হয়েছিল। তবে বিষয়টি নজরে আসার পরই দ্রুত ভুল সংশোধন করে পরিমার্জিত বিলটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বে এমন চরম গাফিলতির ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলাম জানান, বিলিং প্রক্রিয়ায় এমন অমার্জনীয় ভুলের পেছনে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. রেজাউল করিম এবং বিলিং সহকারী সোমা রানীসহ মোট চারজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/এমআর