Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

হুইপের কণ্ঠ নকল করে ব্যবসায়ীর সাড়ে তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার ৪ 

জেলা প্রতিনিধি

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম

এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের কন্ঠ নকল করে ব্যবসায়ী জিএম আজিজুর রহমান ও তার প্রবাসী বড় ভাই জিএম মফিজুর রহমান টিকুর কাছ থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি)।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কেএমপির গোয়েন্দা শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন এজাজ আহমেদ রাজা, জাকিয়া সুলতানা, মো. বাবু ও ইমরান। তাঁদের মধ্যে এজাজ আহমেদ রাজা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

পুলিশ জানায়, প্রতারকরা এআইএর মাধ্যমে কন্ঠ নকল করে ব্যবসায়ী ও তার তাঁর প্রবাসী বড় ভাইয়ের কাছে মিলের প্লাটিনাম জুট মিলের পুরনো যন্ত্রাংশ কেনাবেচার প্রস্তাব দেয়। পরে তাদের কাছ থেকে প্রথমে দুই কোটি এবং পরে আরো দেড় কোটি টাকা নেওয়া হয়।

ব্যবসায়ীর দায়ের করা মামলা এজাহার সূত্রে জানা যায়,  খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আরিফ তাঁর বড় ভাইকে ফোন করে জানান, জাতীয় সংসদের হুইপ ‘বকুল ভাই’ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চান। এরপর একটি বিদেশি নম্বর হুইপের নম্বর হিসেবে দেওয়া হয়।

ওই নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে কল করলে অপরপ্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে হুইপ বকুল পরিচয় দেন। ২৯ জুলাই রাত ২টা ৩৮ মিনিটে পশ্চিম টুটপাড়ার বাসায় থাকা অবস্থায় মফিজুর রহমান টিকু ওই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর ভাই ব্যবসায়ী আজিজুর রহমানকে গ্রুপ কলে যুক্ত করেন। সেখানে মিলের পুরোনো যন্ত্রাংশ কেনা-বেচা নিয়ে আলোচনা হয়।

এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, আলোচনার একপর্যায়ে হুইপ পরিচয়দানকারী ব্যক্তি যন্ত্রাংশ কেনার আগে অগ্রিম অর্থ পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেন। পরে ব্যবসায়ীর সঙ্গে দেখা করার জন্য একজনকে পাঠানোর কথা জানান তিনি। সে অনুযায়ী, ২৯ জুলাই বিকেল সোয়া ৩টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে মাহাবুবুর রহমান মামুনের আসার কথা থাকলেও তিনি আসেননি। পরিবর্তে এজাজ আহমেদ রাজাসহ আরও একজন ব্যবসায়ীর কাছে যান। এ সময় প্লাটিনাম জুট মিলের পুরোনো যন্ত্রাংশ কেনার অগ্রিম মূল্য হিসেবে তাঁদের হাতে দুই কোটি টাকা তুলে দেন ব্যবসায়ী।

এরপর একই নম্বরে আবার যোগাযোগ করা হলে হুইপ পরিচয়দানকারী ব্যক্তি ব্যবসায়ীকে হার্ডবোর্ড মিল কেনার প্রস্তাব দেন। পরদিন ৩০ জুলাই ভোরে আইনজীবী মোহাম্মদ আলী বাবু হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে জানান, ‘বকুল ভাই’ তাঁকে জুট মিলে যেতে বলেছেন। পরে ওই দিন দুপুরে সেখানে গিয়ে যন্ত্রাংশ পছন্দ করেন ব্যবসায়ী। এ সময় এজাজ আহমেদ রাজা ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের আরও দেড় কোটি টাকা দেন তিনি।

কিন্তু এরপর থেকে হুইপ পরিচয়দানকারী ব্যক্তি বারবার সাক্ষাতের আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয় সংসদের হুইপ খুলনায় এলে তাঁর সঙ্গে সরাসরি দেখা করেন ওই ব্যবসায়ী। এ সময় পুরো ঘটনা খুলে বললে হুইপ তাঁকে জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এতে প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন ব্যবসায়ী।

এ ঘটনায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনা থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। 

কেএমপির গোয়েন্দা শাখার উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান মিয়া জানান, ব্যবসায়ীর করা মামলায় এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্য জাকিয়া সুলতানা নামে এক আসামির কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও অর্থ উদ্ধারে অভিযান চলছে।

প্রতিনিধি/ এজে