Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

বছর ধরে রমেক হাসপাতালের ক্যাথল্যাব নষ্ট, ভোগান্তি

জেলা প্রতিনিধি

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫১ এএম

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগীদের জন্য স্থাপিত দুটি ক্যাথেটারাইজেশন ল্যাবরেটরির (ক্যাথল্যাব) একটি প্রায় এক বছর ধরে নষ্ট। ফলে হৃদরোগের জটিল চিকিৎসায় একমাত্র সচল ক্যাথল্যাবটির ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে হৃদরোগীদের। তবে সচল মেশিনটির ওপর চাপ কমাতে এবং আয়ুষ্কাল বাড়াতে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনেই এনজিওগ্রাম, রিং ও পেসমেকার স্থাপনের মতো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রয়োজনের সময় সেবা না পেয়ে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে অনেক হৃদরোগীদের।

হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ক্যাথল্যাবে উন্নত এক্স-রে ও ইমেজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির বিভিন্ন জটিল রোগ শনাক্ত করে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার ছাড়াই চিকিৎসা দেওয়া হয়। এনজিওগ্রামের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের ধমনিতে ব্লক বা সংকোচন শনাক্ত করা হয় এবং প্রয়োজন হলে বেলুন বা স্টেন্ট (রিং) বসিয়ে বন্ধ বা সংকুচিত রক্তনালি সচল করা হয়। এছাড়া পেসমেকার স্থাপনসহ ভালভ ও হৃদযন্ত্রের জন্মগত ত্রুটির চিকিৎসাতেও এই ক্যাথল্যাব ব্যবহার করা হয়।

অর্থের দিক থেকে সরকারি হাসপাতালে এনজিওগ্রামের ফি মাত্র ২ হাজার টাকা। অথচ বেসরকারি হাসপাতালে একই চিকিৎসায় খরচ পড়ে প্রায় ১৬-৩৫ হাজার টাকা। স্থায়ী পেসমেকার স্থাপনে রমেক হাসপাতালে ২ লাখ টাকার মধ্যে খরচ হলেও বেসরকারি হাসপাতালে কমপক্ষে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হয়।

এদিকে, উত্তরাঞ্চলের হৃদরোগীদের জন্য গত ২০১১-১২ অর্থবছরে রমেকের কার্ডিওলজি বিভাগে প্রথম ক্যাথল্যাব চালু হয়। বর্তমানে একটি দীর্ঘদিন ধরে অচল। এরই মধ্যে সম্প্রতি সচল ক্যাথল্যাবের এসির কেবল ও অন্যান্য উপকরণ চুরি যাওয়ায় কিছুদিন চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

সাময়িক অসুবিধার কথা স্বীকার করে ক্যাথল্যাব ইনচার্জ টেকনোলজিস্ট মাহমুদুল হাসান জানান, হৃদরোগীর প্রচুর চাপ। দুটি মেশিন চালু থাকলে এই চাপ থাকতো না। একটি যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ত না এবং বেশি রোগীকে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতো।

কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. হাসানুল ইসলাম জানান, গত মাসে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এই ক্যাথল্যাবে ১১০টি এনজিওগ্রাম, ২০টি রিং ও সাতটি পেসমেকার স্থাপন করা হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে গড়ে ২৫-৩০ জন রোগী এনজিওগ্রামের জন্য ভর্তি হন। এই ভর্তিকৃত রোগীদের মধ্যে তিন থেকে পাঁচজনের রিং স্থাপনের প্রয়োজন হয়। প্রতি মাসে গড়ে দুই থেকে তিনটি স্থায়ী পেসমেকারও স্থাপন করা হয় এই ক্যাথলাবে।

তিনি বলেন, ‘সচল ক্যাথল্যাবটির ওপর চাপ কমাতে এবং আয়ুষ্কাল বাড়াতে সপ্তাহের রোববার, সোমবার ও মঙ্গলবার এনজিওগ্রাম এবং বুধবার ও বৃহস্পতিবার পেসমেকার ও রিং স্থাপনের কাজ করা হচ্ছে। দুটি ক্যাথলাব খুবই প্রয়োজন। কেননা উত্তরাঞ্চলের অনেক রোগী অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় এনজিওগ্রামে রক্তনালিতে ব্লক ধরা পড়ার পর অর্থের অভাবে অনেকে রিং স্থাপন করতে পারেন না। সরকারি ব্যবস্থাপনায় রিংসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ সরবরাহ করা হলে দরিদ্র রোগীরা চিকিৎসার ক্ষেত্রে উপকৃত হতেন।

উত্তরের এই হাসপাতালে কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগ না থাকাও বড় সীমাবদ্ধতা বলে জানান ডা. হাসানুল ইসলাম। তিনি বলেন, পরীক্ষায় কোনো রোগীর বাইপাস সার্জারির প্রয়োজন হলেই তাকে ঢাকায় যেতে হয়। অথচ রমেকে কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগ থাকলে তুলনামূলক কম খরচে বাইপাস সার্জারি করা সম্ভব হতো।

 

এ বিষয়ে রমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. আশিকুর রহমান বলেন, দুটি ক্যাথল্যাবের একটি নষ্ট থাকায় হৃদরোগীদের জন্য সমস্যা হচ্ছে। তবে এই সমস্যার সমাধান অল্প সময়ের মধ্যে হবে। হাসপাতাল চত্বরে নির্মাণাধীন ১৫ তলা ৪৬০ শয্যার সমন্বিত ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা ইউনিটের কাজ আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সেই ভবনে নতুন ক্যাথল্যাবও পাওয়া যাবে। এ কারণে স্বল্প সময়ের জন্য পুরনো ক্যাথল্যাব মেরামত অথবা নতুন ক্যাথল্যাব কেনার পেছনে বড় অংকের অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি এখন বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না।

প্রতিনিধি/টিবি