জেলা প্রতিনিধি
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পাচারকালে ১০ বস্তা টিএসপি ও ১০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেন স্থানীয়রা কৃষকরা। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের নাউতি ভবানীপুর এলাকা সারের বস্তাগুলো জব্দ করেন তারা।
পরে জব্দকৃত সার হেফাজতে নিয়ে প্রকৃত মালিকের সন্ধানে নামে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
এরপর যাচাই-বাছাই শেষে সন্ধা ৭টার দিকে শিলাইদহ ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার মো. মকুল হোসেনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া জব্দকৃত সার ন্যায্যমূল্যে উপস্থিত কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়।
অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৫৬-এর ৬ ধারায় আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার। সহযোগিতা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন ও থানা পুলিশ। ন্যায্যমূল্যে বিক্রির অর্থ নিয়ম মেনে সরকারি কষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
এলাকাবাসী ও অভিযান সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে শিলাইদহ বাজার এলাকায় অবস্থিত বিসিআইসির ডিলার মো. মকবুল হোসেনের দোকান থেকে ২০ বস্তা সার পলিথিনে ঢেকে খোকসার শোমসপুর বাজার এলাকার আব্দুল আলিমের দোকানে পাচার করা হচ্ছিল।
কিন্তু সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এক ইউনিয়নের সার অন্য ইউনিয়নে নেওয়া বা বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। পথিমধ্যে ভ্যানসহ সার আটক করে প্রশাসনকে খবর দেন কৃষকরা। পরে উপজেলা প্রশাসন এসে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জব্দকৃত সার ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করেন । গত ১৬ সেপ্টেম্বর একই অপরাধে ওই ডিলারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
স্থানীয় কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার এলাকার সার খোকসা পাচার হচ্ছিল। প্রতিদিনই ভ্যানে এমন সার পাচার হয়। সন্দেহজনক ভাবে ভ্যান থামিয়ে পাচারের প্রমাণ মিললে প্রশাসনকে জানানো হয়।’
অভিযুক্ত ভ্যানচালক মো. জাকির হোসেন জানান, তিনি শিলাইদহ বাজারের ডিলার পয়েন্ট থেকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ১০ বস্তা ইউরিয়া ও ১০ বস্তা টিএসপি সার কিনেছেন। সারের প্রকৃত মালিক খোকসার শোমসপুর বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম। সেখানে যাওয়ার পথে লোকজন আটক করেছেন।
শোমসপুর বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম বলেন, ‘মাঝেমধ্যে শিলাইদহের ডিলারের কাছ থেকে সার কিনে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়। আজ ৩০ হাজার টাকায় ২০ বস্তা কিনেছিলাম। আমার ভুল হয়েছে।’
তবে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি ঘটনাস্থলে থাকা শিলাইদহের বিসিআইসি ডিলার পয়েন্টের ব্যবস্থাপক মো. মনিরুল ইসলাম।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, ‘নিয়ম অমান্য করে এক ইউনিয়নের সার অন্য ইউনিয়নে বিক্রির অভিযোগে ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া জব্দকৃত ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে।’
একই ধরনের অপরাধের জন্য ১৬ সেপ্টেম্বর ওই ডিলারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে সতর্ক করা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
এএইচ