জেলা প্রতিনিধি
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করলে পুলিশের দাখিল করা নথিতে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। আসামিদের বয়স, গ্রেফতারের সময় ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি তদন্তকারী কর্মকর্তার নাম, পদবি, সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ত্রুটি পায় আদালত। এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমানের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সুন্দরগঞ্জ থানার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার গাইবান্ধার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত (সুন্দরগঞ্জ)-এর বিচারক পাঁপড়ি বড়ুয়া এ আদেশ দেন।
মামলায় গ্রেফতার তিন ব্যক্তি হলেন শান্তিরাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান (৫২), বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সুলতান আহম্মেদ (৬৫) ও লিটন মণ্ডল (৩৯)।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তিন আসামিকে আদালতে হাজির করার পর তাদের বয়স ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সুলতান আহম্মেদ আদালতে নিজের বয়স ৭২ বছরের বেশি বলে দাবি করেন। তিনি লিভার ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন বলেও জানান।
অন্যদিকে লিটন মণ্ডল আদালতে দাবি করেন, তাকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গ্রেফতার করা হলেও পুলিশের ফরোয়ার্ডিংয়ে গ্রেফতারের সময় বেলা সাড়ে ৩টা উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের আদেশে বলা হয়, আসামিদের বয়স, গ্রেফতারের কারণ ও সময় এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। এ ছাড়া তদন্তকারী কর্মকর্তার নাম, পদবি, সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ত্রুটি পাওয়া গেছে।
এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে আদালতে উপস্থাপন না করার কারণ জানতে ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহকে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করেছেন কি না, সে বিষয়েও তাকে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, আসামিরা জামিনের জন্য এসব বিষয় সামনে আনছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দুই কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর তিনি সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিয়েছেন। মামলার তদন্ত এখনো চলছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড এবং দহবন্দ ইউনিয়নের গোপালচরণ এলাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। ভোর ৪টা ২৬ মিনিটে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলাইমান সরকার সাজার বাড়ির সামনে প্রথম বিস্ফোরণ হয়। এর দুই মিনিট পর ৪টা ২৮ মিনিটে গোপালচরণ উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় এবং ৪টা ৩০ মিনিটে বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের সড়কে তৃতীয় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কেউ হতাহত না হলেও এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে সুন্দরগঞ্জ থানার এসআই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিভিন্ন ধারা রয়েছে।
তদন্তের একপর্যায়ে প্রথমে আনিছুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর সুলতান আহম্মেদ ও লিটন মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাদের আদালতে হাজির করা হলে বয়স, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য ও গ্রেফতারের সময় নিয়ে অসঙ্গতির বিষয়টি সামনে আসে। এরপর পুলিশের নথি ও তথ্য উপস্থাপনের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত এখনো চলছে।
প্রতিনিধি/এআর