Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

চালু হচ্ছে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার

জেলা প্রতিনিধি

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ আশপাশের এলাকার কিডনি রোগীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থাপন করা হচ্ছে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার। সরকারি উদ্যোগে এ সেন্টার চালু হলে অর্থাভাবে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে না পারা অসচ্ছল রোগীদের জন্য চিকিৎসার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

দেশের ৪৪টি জেলা সদর হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালকেও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ২৪ সেপ্টেম্বরের চিঠিতে প্রকাশিত তালিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের নাম রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ডায়ালাইসিস সেন্টার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামোর অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ৩ জন মেডিকেল টেকনিশিয়ান (অ্যানেসথেশিয়া)সহ প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টির অনুমোদন রয়েছে।

কিডনি ডায়ালাইসিস একটি ব্যয়বহুল ও নিয়মিত চিকিৎসা। একজন রোগীকে দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিতে হয়। ফলে নিম্নআয়ের পরিবারের অনেক রোগীর জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার ঢাকাসহ দূরের শহরে গিয়ে ডায়ালাইসিস করাতে হলে চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি যাতায়াত, থাকা-খাওয়াসহ অতিরিক্ত খরচও বহন করতে হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস সেবা চালু হলে জেলার দরিদ্র ও অসচ্ছল কিডনি রোগীরা নিজ জেলায় চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে রোগী ও স্বজনদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমার সুযোগ তৈরি হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। তবে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও বিভিন্ন সময়ে এখানে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী পর্যন্ত ভর্তি থাকেন বলে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপের মধ্যেই ডায়ালাইসিস সেন্টার যুক্ত হওয়াকে জেলার স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগটি জেলার কিডনি রোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীরা নিজ জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিসের সুযোগ পেলে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সেন্টারটি দ্রুত চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। উনিও চাচ্ছেন দ্রুত কার্যক্রম শুরু হোক। গত মিটিংয়েও এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু সেন্টার স্থাপনের অনুমোদনই নয়, দ্রুত প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন, জনবল নিয়োগ এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই এখন মূল বিষয়। এসব প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন হলে জেলার কিডনি রোগীদের জন্য দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সরকারি ডায়ালাইসিস সেবা বাস্তবে চালু করা সম্ভব হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ১০ শয্যার এই ডায়ালাইসিস সেন্টার দ্রুত কার্যক্রম শুরু করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাশাপাশি আশপাশের এলাকার অসচ্ছল কিডনি রোগীরাও উপকৃত হবেন। অর্থের অভাবে যেসব রোগী নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে পারেন না, তাদের জন্য এটি হয়ে উঠতে পারে গুরুত্বপূর্ণ একটি চিকিৎসাকেন্দ্র।

প্রতিনিধি/এলএ