Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

নওগাঁয় দ্বিতীয় দিনের মতো বাস-অটোরিকশা চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগ

জেলা প্রতিনিধি

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম

নওগাঁয় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও বাসের শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের পর উভয় পক্ষই দ্বিতীয় দিনের মতো যান চলাচল বন্ধ রেখেছে।

ঘোষণা ছাড়াই রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ ও কয়েকটি আন্তজেলা রুটে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।

নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃজেলা বিভিন্ন রুটে বাস ছেড়ে যায়। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বালুডাঙ্গা বাস টার্মিনাল গিয়ে দেখা যায়, টার্মিনাল থেকে কোনো বাস ছেড়ে যাচ্ছে না। বাসগুলো টার্মিনালে সারি করে রাখা হয়েছে। বাসের পাশাপাশি বালুডাঙ্গা বাসস্টান্ড থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাও ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। বাস ও অটোরিকশা না পেয়ে যাত্রীদের ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে (ইজিবাইক) দূরের গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। তবে শহরের পার-নওগাঁ এলাকায় অবস্থিত ঢাকা বাসস্টান্ড থেকে ঢাকাসহ দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। 

বাস ও অটোরিকশা মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্টান্ড যাত্রী উঠানোকে কেন্দ্র করে সিএনজিচালিত এক অটোরিকশা চালকের সঙ্গে মহন্ত পরিবহন নামের একটি বাসের চালক ও তার সহকারীর বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে শনিবার দুপুর ১টার দিকে পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্টান্ড এলাকায় সিএনজি চালকেরা সংঘবদ্ধ হয়ে মহন্ত পরিবহনের বাসচালক রুবেল হোসেন ও তার সহকারীকে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় চালক রুবেল হোসেন ও তার সহকারীকে উদ্ধার করে প্রথমে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চালক রুবেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার সন্ধ্যায় তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ওই চালক চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

IMG-20260928-WA0015

বাসচালক ও তার সহকারীকে মারধরের প্রতিবাদে গতকাল রোববার সকাল ৭টা থেকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তজেলা কয়েকটি সড়কে (নওগাঁ থেকে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট ও বগুড়া রুটে) বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। বাস বন্ধ রাখার পাশাপাশি বাস শ্রমিকেরা গতকাল সকাল থেকে সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশাও চলাচল করতে দিচ্ছে না। বাস শ্রমিকদের বাধা উপেক্ষা করে যেসব অটোরিকশা চালক সড়কে অটোরিকশা চালানোর চেষ্টা করেছে তাদের ওপর হামলা চালিয়ছে বাস শ্রমিকেরা। গতকাল দিনভর প্রায় ২০টি অটোরিকশা ভাঙচুর করেছে বাস শ্রমিকেরা।

বাস-অটোরিকশা বন্ধ থাকায় যাতায়াতে অতিরিক্ত খরচ ও সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। রাজশাহী থেকে নওগাঁয় আসা যাত্রী মোহাম্মদ সানি জানান, সরাসরি গাড়ি না পাওয়ায় তাকে ভেঙে ভেঙে সিএনজি ও অটোরিকশায় আসতে হয়েছে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, আগে রাজশাহী থেকে আসতে ভাড়া লাগত ১৮০-১৯০ টাকা, আজ দিতে হয়েছে প্রায় ২৫০ টাকা। বাস বন্ধ থাকার সুযোগে সবাই অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে। বাড়তি ভাড়ার পাশাপাশি আমাদের অনেক বেশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে।

​এদিকে, নিয়ামতপুর থেকে আদালতে হাজিরা দিতে আসা যাত্রী শফিকুল ইসলাম বাসস্ট্যান্ডে এসে কোনো গাড়ি না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েন। শেষ পর্যন্ত বিকল্প উপায়ে তিন দফায় তাকে নওগাঁ শহরে পৌঁছাতে হয়, যাতে তার অতিরিক্ত প্রায় দুই ঘণ্টা সময় অপচয় হয়।

​বিভিন্ন শহরে ঘুরে ঘুরে হকারি ব্যবসা করা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী যাত্রী মাসুদ হোসেনের অবস্থাও ছিল শোচনীয়। পার্বতীপুর থেকে নওগাঁ এসে দেখেন বাস-সিএনজিসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ। কীভাবে গন্তব্যে যাবেন বুঝে উঠতে না পেরে ক্ষুব্ধ এই যাত্রী বলেন, বাস শ্রমিক আর অটোরিকশাচালকদের বিরোধের খেসারত সবসময় সাধারণ মানুষকে দিতে হয়।

​এ বিষয়ে জেলা অটোরিকশা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দুলাল মন্ডল বলেন, গত শনিবার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সিএনজিতে যাত্রী ওঠানো নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে নজিপুরে এই সংঘর্ষ হয়। সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে এভাবে বাস চলাচল বন্ধ রাখা এবং শনিবার সন্ধ্যা থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০টি অটোরিকশা ভাঙচুর করা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।

​অন্যদিকে, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জানান, বাসচালক ও তার সহকারীকে মারধরের প্রতিবাদে এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। তাদের দাবি, হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং মহাসড়কে সরকারি আইন অনুযায়ী সব ধরনের তিন চাকার যান চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের সঙ্গে ইতোমধ্যে বৈঠক হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রতিনিধি/টিবি