জেলা প্রতিনিধি
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৯ এএম
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয়রা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে মুস্তাফিজুর রহমানের সৌজন্যে উপজেলার ১০ নম্বর কোটাকোল ইউনিয়নের তেলকারা, করগাতি ও রায়পাশা এলাকার নদীপাড়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মধুমতি নদীর ভাঙনে কোটাকোল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বসতবাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে তেলকারা, করগাতি ও রায়পাশা এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি।
স্থানীয়দের দাবি, একসময় এসব এলাকায় প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ পরিবারের বসতবাড়ি ছিল। ভয়াবহ নদীভাঙনে এসব পরিবারের অনেকের ঘরবাড়ি ও ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নিঃস্ব হয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়দের মধ্যে ছত্তার মোল্যা, ইসলাম ফকির, আলিম মোল্যা, হাই মোল্যা, রসুল মোল্যা, মির্জা খাঁ, রেজন খাঁ, রহিমন, খলিল, শাহিন শিকদার, আব্বাস, আকরাম, জাফর খাঁ ও মান্নান মোল্লাসহ আরও অনেক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে। তারা দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙনে তেলকারা কারিকারপাড়া মসজিদ ও তেলকারা নতুন বাড়ি মসজিদ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া তেলকারা শেখপাড়া জামে মসজিদ, তেলকারা শিকদারপাড়া জামে মসজিদ ও তেলকারা পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। এ ছাড়া করগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার সড়ক, তেলকারা আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাঙনের কবলে পড়েছে। পাশের বড়দিয়া এলাকাতেও নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এখনই নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অল্প সময়ের মধ্যে আরও বহু পরিবার, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মধুমতির গর্ভে চলে যেতে পারে। তাই দ্রুত নদীশাসন ও ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এদিন মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন রোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
প্রতিনিধি/এএস