জেলা প্রতিনিধি
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০২ এএম
বন্ধুত্বের টানে দেশের সীমানা পেরিয়ে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে ছুটে এসেছেন মালয়েশিয়ার চার নাগরিক। বাংলাদেশি বন্ধু নাজমুল মৃধার বিয়েতে যোগ দিতে তাদের এই আগমন। বিদেশি বন্ধুদের পেয়ে আনন্দিত নাজমুলের পরিবার। অন্যদিকে, তাদের একনজর দেখতে স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখীপুর থানার চরভাগা ইউনিয়নের মৃধাকান্দি গ্রামে নাজমুল মৃধার বাড়িতে যান চার মালয়েশীয় নাগরিক। পরে তারা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে কনের বাড়িতে যান।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান সি সিমার এন্টারপ্রাইজের মালিকসহ ওই চার মালয়েশীয় নাগরিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃধাকান্দি গ্রামের নাজমুল মৃধা প্রায় ১৬ বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। দীর্ঘদিন সেখানে কাজ করার পর গত ১০ বছর ধরে তিনি সি সিমার এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে যুক্ত। কর্মদক্ষতা, সততা ও ভালো আচরণের মাধ্যমে তিনি প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও সহকর্মীদের আস্থা অর্জন করেন। একপর্যায়ে সহকর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক গভীর বন্ধুত্বে রূপ নেয়।
সম্প্রতি দেশে ফিরে একই গ্রামের জান্নাত আক্তারের সঙ্গে নাজমুলের বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়। জীবনের বিশেষ এই আয়োজনে প্রবাসজীবনের বন্ধুদেরও আমন্ত্রণ জানান তিনি। বন্ধুর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে ছুটে আসেন চার নাগরিক।
মালয়েশীয় নাগরিক ইসমাঈল বলেন, ‘বন্ধু নাজমুল যখন আমাকে তার বিয়েতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়, তখনই বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নিই। তার কাছ থেকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে অনেক কিছু শুনেছি। তাই সরাসরি এসে তার বিয়েতে অংশ নেওয়ার আগ্রহ ছিল। এই সফরের মাধ্যমে আমাদের বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।’
আরেক অতিথি জেসু বলেন, ‘নাজমুলের পরিবারের সদস্যরা ফুল দিয়ে আমাদের বরণ করে নিয়েছেন। তাদের আন্তরিক আতিথেয়তা এবং বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। দেশে ফিরে গেলেও আবার বাংলাদেশে আসতে চাই।’
বিদেশি বন্ধুদের আগমনে উচ্ছ্বসিত নাজমুল মৃধা বলেন, ‘প্রবাসজীবনে সততা, কর্মদক্ষতা ও ভালো আচরণ থাকলে মানুষের আস্থা অর্জন করা যায়। মালয়েশিয়ায় যাদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, তাদের মধ্যে সি সিমার এন্টারপ্রাইজের মালিক অন্যতম। বর্তমানে আমরা একসঙ্গে ব্যবসাও করছি। আমার বিয়েতে তারা এসেছেন—এটি আমার জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রবাসে যারা আছেন, তারা যেন সব সময় সততা ও আদর্শের সঙ্গে কাজ করেন। আমাদের নীতি-আদর্শ ভালো হলে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব। এতে বাংলাদেশের মানুষেরই লাভ হবে।’
কনে জান্নাত আক্তার বলেন, ‘তারা আমাদের বিয়েতে এসেছেন দেখে খুব ভালো লাগছে। গ্রামের মানুষও তাদের দেখতে ও কথা বলতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বিদেশি অতিথিরা আমাদের বিয়েতে আসায় আনন্দ আরও বেড়ে গেছে।’
চার মালয়েশীয় নাগরিকের উপস্থিতিকে ঘিরে বিয়ের বাড়িতে তৈরি হয় ভিন্নরকম উৎসবের আমেজ। আশপাশের গ্রামের অনেক মানুষ তাদের দেখতে নাজমুলের বাড়িতে ভিড় করেন। কেউ কথা বলতে, কেউ আবার বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
প্রতিনিধি/এএস