Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

অন্তরঙ্গ ভিডিও করে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে নিরঞ্জনকে হত্যা: পিবিআই

জেলা প্রতিনিধি

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম

ময়মনসিংহের বেগুনবাড়ী স্লুইসগেট এলাকায় পানিতে ভাসতে থাকা একটি ড্রাম থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় শামীম মিয়া (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহে সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এসব তথ্য জানান।

গ্রেফতার শামীম মিয়া নেত্রকোনার কমলাকান্দা উপজেলার কৃষ্টপুর গ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে। তিনি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গলগন্ডা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

নিহত ব্যক্তির নাম নিরঞ্জন ধর (৫৪)। তিনি ত্রিশাল থানার রমেন্দ্র চন্দ্র সুত্রধরের ছেলে। ময়মনসিংহ নগরের আউটার স্টেডিয়াম এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। পিবিআইয়ের ভাষ্য, নিরঞ্জন স্বর্ণকারের পাশাপাশি অটোরিকশার মালিক ছিলেন।

পিবিআই জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে বেগুনবাড়ী স্লুইসগেট এলাকায় পানির নিচে একটি ড্রামের ভেতর থেকে বস্তাবন্দি লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাশের ছবি ছড়িয়ে পড়লে নিখোঁজ নিরঞ্জন ধরের পরিবারের সদস্যরা ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সবিতা রানী ধর বাদী হয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পিবিআই স্বউদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার নেয়।

পিবিআইয়ের দাবি, শামীম এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি। তার চারটি অটোরিকশা ছিল, যেগুলো ময়মনসিংহের খাগডহর এলাকার সততা গ্যারেজে রাখা হতো। শামীম ওই গ্যারেজের ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন। এ সূত্রে নিরঞ্জনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, শামীমের ভাড়া বাসায় এক নারীকে নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি আপত্তিকর ভিডিও নিরঞ্জন ধারণ করেছিলেন। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে তিনি শামীমকে ব্ল্যাকমেল করে টাকা দাবি করতেন।

আরও পড়ুন

স্লুইসগেটে ভাসতে থাকা ড্রামে মিলল অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ

পিবিআই জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে শামীমের ভাড়া বাসায় গিয়ে আবারও টাকা দাবি করেন নিরঞ্জন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শামীম ঘরে থাকা শিল দিয়ে নিরঞ্জনের মাথায় আঘাত করেন। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তার মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া হয়। পরে বটি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তার মৃত্যু হয় বলে পিবিআইয়ের দাবি।

হত্যার পর লাশ গুমের পরিকল্পনা করেন শামীম। প্রথমে চটের বস্তায় লাশ ভরে একটি চালের ড্রামের মধ্যে রাখা হয়। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর রাত আটটার দিকে একটি মিশুক (ইজিবাইক) এনে ড্রামটি বেগুনবাড়ী স্লুইসগেট এলাকায় নেওয়া হয়। পরে ড্রামটি পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

পিবিআই জানায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ডবাজারের বটতলার সর্দার মার্কেট এলাকা থেকে শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সেখানে তার শ্যালক মাসুদ রানার ভাড়া বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন।

পরে ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে শামীমের দেখানো মতে তার ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শিল ও বটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়েছিল। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পিবিআইয়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের প্রচেষ্টায় দ্রুত প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

প্রতিনিধি/এসএস