জেলা প্রতিনিধি
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২০ পিএম
যশোরের হামিদপুরে শামস্-উল-হুদা ফুটবল অ্যাকাডেমিতে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপের বাছাই পর্ব সামনে রেখে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় ফুটবল দলের নিবিড় অনুশীলন ক্যাম্প চলছে। বাছাইয়ে ভালো ফল করে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্যে অনুশীলনে খেলোয়াড়দের দক্ষতা ও দলীয় সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার বিকেলে অ্যাকাডেমিতে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের প্রধান কোচ লডউইক ডি ক্রুইফ। এ সময় তিনি অ্যাকাডেমির অবকাঠামো, প্রশিক্ষণের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করেন।
ডি ক্রুইফ বলেন, বয়সভিত্তিক ফুটবলে শুধু জয়-পরাজয় নয়, খেলোয়াড়দের দক্ষতা ও মানোন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ ফুটবলারদের ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভালো থাকা-খাওয়া ও পুষ্টির প্রয়োজন রয়েছে। সঠিক পরিবেশ ও পরিকল্পনার মাধ্যমে তাদের আরও উন্নত করা সম্ভব।
তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের উন্নয়নের জন্য ভালো প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের থাকা-খাওয়া ও পুষ্টির বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সে ধরনের পরিবেশ রয়েছে। আবহাওয়ার কারণে মাঠে অনুশীলনে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটলেও আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি ভালোভাবেই এগোচ্ছে।
আসন্ন এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপের বাছাইকে সামনে রেখে দলের প্রধান লক্ষ্য সম্পর্কে ডি ক্রুইফ বলেন, খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও দলীয় উন্নয়নের পাশাপাশি বাছাইয়ে ভালো ফল করাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য। এ জন্য অনুশীলনে বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ফুটবলের সাম্প্রতিক উন্নতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন নেদারল্যান্ডসের এই কোচ। তিনি বলেন, গত ১০ বছরে বাংলাদেশের ফুটবলে যে উন্নতি হয়েছে তা দেখে তিনি আনন্দিত। মামুনুল, জাহিদ, জামাল, তপু ও সোহেল রানার মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও জানান।
ডি ক্রুইফ বলেন, বাফুফেতে যে পরিবর্তনগুলো এসেছে, আমি মনে করি তা ফুটবলের সার্বিক উন্নতির জন্যই কল্যাণকর। বাংলাদেশের ফুটবলের সামগ্রিক পরিবেশ ক্রমশ আরও ভালো হচ্ছে।
বাংলাদেশ ছাড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত কারণ এবং বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনার জন্য তাকে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছিল। পরে নাইজেরিয়ায় প্রায় দুই বছর স্কাউটিং, একাডেমি পরিচালনা এবং একাডেমির খেলোয়াড়দের উন্নয়নে কাজ করেছেন। তার কাজের মাধ্যমে সেখানকার কয়েকজন খেলোয়াড় ইউরোপের বিভিন্ন ভালো লিগে খেলার সুযোগ পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, তরুণ খেলোয়াড়দের সঠিকভাবে পরিচর্যা করা গেলে তাদের সামনে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এ জন্য বয়সভিত্তিক দলগুলোর প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শামস্-উল-হুদা ফুটবল অ্যাকাডেমির পরিচালক (প্রশাসন) শেখ শামস উল বারী শিমুল এবং অ্যাকাডেমির যুগ্ম-পরিচালক ও জাতীয় দলের সাবেক গোলকিপার মাসুদুর রহমান টনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/এলএ