জেলা প্রতিনিধি
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
বরিশাল নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর নাজিয়া রহমান মাইশা (৩০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাহাত-আনোয়ার হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। স্বজনেরা চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শ্বাসনালিতে বমি আটকে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়েছে।
মাইশা নগরীর কালিজিরা এলাকার বাসিন্দা। তিনি বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের সাবেক কর্মচারী প্রয়াত মো. নাজমুর রহমান বাদলের মেয়ে। উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত মাইশার সিজারের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।
স্বজনদের দাবি, বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেজিস্ট্রার ডা. তহুরা আক্তারের তত্ত্বাবধানে গর্ভকালীন চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মাইশা। তার পরামর্শেই রাহাত-আনোয়ার হাসপাতালে সিজারের জন্য ভর্তি করা হয় তাকে। ডা. তহুরা অস্ত্রোপচার করে সন্তান প্রসব করান। তবে অস্ত্রোপচারের শেষদিকে মাইশার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় বলে স্বজনেরা অভিযোগ করেন।
স্বজন সাজ্জাদ হোসেন নয়ন অভিযোগ করেন, অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর মাইশা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বমি করতে থাকেন। তার দাবি, অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক সোহেল মিয়া অস্ত্রোপচারের সময় সার্বক্ষণিক রোগীর পাশে ছিলেন না।

তবে হাসপাতালের ম্যানেজার সাহিল আহমেদ সাকিব বলেন, অস্ত্রোপচার স্বাভাবিকভাবেই সম্পন্ন হয়েছিল এবং মা ও সন্তান দুজনই ভালো ছিলেন। পরে পোস্টঅপারেটিভ ইউনিটে মাইশার রক্তচাপ কমে যায় এবং তিনি কয়েকবার বমি করেন। তাৎক্ষণিকভাবে বমি পরিষ্কার করা হলেও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে পাঠানো হয়। সেখানে শ্বাসনালিতে বমি আটকে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়।
মাইশার স্বামী হাফিজ আহমেদ বলেন, সন্তান জন্মের পর অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসকেরা কী করেছেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।
স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর ডা. তহুরা আক্তার ও ডা. সোহেল মিয়ার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাদের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস