Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

ভূমি কর্মকর্তার কারসাজির অভিযোগ, প্রাপ্যের ১২ গুণ জমি নামজারি

জেলা প্রতিনিধি

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৯ এএম

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা খালেদ হোসেনের বিরুদ্ধে কারসাজির মাধ্যমে এক ব্যক্তির প্রাপ্যের প্রায় ১২ গুণ জমি নামজারির (খারিজ) প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে একই দাগের অন্য মালিকেরা তাদের প্রাপ্য জমি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের রামজীবনপুর মৌজার বিআরএস খতিয়ান নম্বর ১৮২-এর ২১৩ নম্বর দাগে মোট জমির পরিমাণ ৩৮ শতাংশ। ওই দাগে হিস্যা অনুযায়ী সামছুদ্দিনের প্রাপ্য জমি ৩ দশমিক ১১ শতাংশ। অথচ কয়েক বছর আগে তিনি ওই দাগের ৩৮ শতাংশ জমিই আব্দুস ছাত্তারের কাছে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ নিজের প্রাপ্যের তুলনায় প্রায় ১২ গুণ বেশি জমি তিনি বিক্রি করেন।

একই দাগে সামছুদ্দিনের তিন ভাতিজি পদুনা খাতুন ওরফে পারভীন, জয়দুনা খাতুন ও জরিনা খাতুনের হিস্যা রয়েছে প্রায় সোয়া ২২ শতাংশ। তাদের অভিযোগ, সামছুদ্দিন নিজের হিস্যার অতিরিক্ত জমি বিক্রি করায় তাদের প্রাপ্য জমিও ওই বিক্রয় দলিলের আওতায় চলে যায়।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি, আব্দুস ছাত্তার জীবিত থাকাকালে তার নামে ওই জমি নামজারি করা সম্ভব হয়নি। কারণ, বিক্রেতার হিস্যার তুলনায় বেশি জমি দলিল করে দেওয়ায় সেখানে অসামঞ্জস্য ছিল। এ কারণে একাধিক ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ওই জমির নামজারির প্রস্তাব দিতে রাজি হননি বলেও দাবি তাদের।

পরে আব্দুস ছাত্তার মারা গেলে তার ওয়ারিশদের নামে জমিটি নামজারির উদ্যোগ নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত আগস্টে সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা খালেদ হোসেন আর্থিক সুবিধা নিয়ে আব্দুস ছাত্তারের ওয়ারিশদের নামে ৩৮ শতাংশ জমির নামজারির প্রস্তাব দেন। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের ওই নামজারি অনুমোদন করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

তবে, এর আগে গত জুলাইয়ে ওই দাগের জমির মালিক জরিনা খাতুন জমিটি অন্যের নামে নামজারি না করার অনুরোধ জানিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেন। তার অভিযোগ, আবেদনটি আমলে না নিয়ে পরবর্তী সময়ে নামজারির প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং তা অনুমোদনও করা হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জমির হিস্যা, আগের দলিল ও ওয়ারিশদের স্বত্ব যাচাই করলে সামছুদ্দিনের প্রাপ্যের অতিরিক্ত জমি বিক্রির বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার কথা। কিন্তু যথাযথ যাচাই-বাছাই না করেই নামজারির প্রস্তাব ও অনুমোদন দেওয়ায় প্রকৃত মালিকেরা তাদের জমি থেকে বঞ্চিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পদুনা খাতুন ওরফে পারভীন বলেন, ‘আমাদের প্রাপ্য জমি থাকা সত্ত্বেও অন্যের নামে পুরো দাগের জমি নামজারি করে দেওয়া হয়েছে। সামছুদ্দিনের যতটুকু জমি পাওয়ার কথা, তার চেয়ে অনেক বেশি জমি তিনি বিক্রি করেছেন। আমরা বিষয়টি জানিয়ে প্রতিকার চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের কথা আমলে নেওয়া হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নামজারির বিষয়ে জানতে গেলে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কম্পিউটার অপারেটর হৃদয় বলেছে, নামজারি নেত্রকোনা থেকে হয়েছে। সেখানে গিয়ে খোঁজ নিতে। এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই।’

জরিনা খাতুন বলেন, ‘জমিটি যাতে অন্যের নামে নামজারি না করা হয়, সে জন্য আমি জুলাই মাসেই সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেছি। এরপরও কীভাবে পুরো জমি অন্যদের নামে নামজারি হলো, তা আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা আমাদের ন্যায্য হিস্যার জমি ফেরত চাই।’

ভূমি অফিসের কম্পিউটার অপারেটর হৃদয় মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করেন।

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা খালেদ হোসেন বলেন, ‘নামজারিতে কোনো অনিয়ম হলে সেটি বাতিল করে দেওয়া হবে।’ তবে কারসাজি করে নামজারির প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের প্রশিক্ষণে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি অবহিত করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, ‘কাগজপত্রগুলো পাঠান, দেখি। নামজারিতে অনিয়ম হলে নামজারি বাতিলসহ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভুক্তভোগীদের দাবি, নামজারি প্রক্রিয়াটি পুনরায় যাচাই করে বিক্রেতার প্রকৃত হিস্যা, সংশ্লিষ্ট দলিল ও ওয়ারিশদের স্বত্ব যাচাই করা হোক। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে প্রকৃত মালিকদের জমির অধিকার নিশ্চিত করা হোক।

ছবি: ভূমি সহকারী কর্মকর্তা খালেদ হোসেন।

প্রতিনিধি/এসএস