জেলা প্রতিনিধি
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৬ এএম
একদিন যারা ছিলেন কর্মচঞ্চল, নিজের হাতে সংসারের হাল ধরেছিলেন, প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার পর তাদের অনেকের জীবনই যেন থমকে যায়। চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা, অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা আর অনিশ্চয়তা হয়ে ওঠে তাদের নিত্যসঙ্গী।
এমন মানুষগুলোর জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালানোর চেষ্টা করছেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের কান্তনগর বাজারের ‘মানবতার সদাই ঘর’-এর পরিচালক আব্দুর রহিম সরকার।
প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ২ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের চাল, ডালসহ বিভিন্ন পণ্য মাত্র ২০ টাকায় দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। তার উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু সহায়তা করা নয়, বরং এসব মানুষের নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আয় করার সুযোগ তৈরি করা।

স্থানীয় ব্যক্তিরা বলছেন, ২ হাজার ৬০০ টাকা হয়ত অনেকের কাছে বড় কোনো অঙ্ক নয়। কিন্তু কর্মক্ষমতা হারানো একজন মানুষের নিজের হাতে উপার্জিত এই অর্থের মূল্য অনেক বেশি। এতে পরিবারের ছোটখাটো প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি তাদের আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাও ফিরে আসছে। সামান্য একটি পণ্য, অল্প কিছু আয়—এর মধ্যেই তারা খুঁজে পাচ্ছেন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন।
স্বেচ্ছাসেবী যুবক কাওছার হাবীব আকাশ বলেন, ‘দামোদরপুর ইউনিয়নের অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফেরাতে কাজ করছে মানবতার সদাই ঘর। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আব্দুর রহিম সরকার প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ২ হাজার ৬০০ টাকার বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী মাত্র ২০ টাকায় দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন। এ ছাড়া অসহায় মানুষের জন্য ৪০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র মাত্র ২০০ টাকায় দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছেন তিনি।’
‘মানবতার সদাই ঘর’-এর পরিচালক আব্দুর রহিম সরকার বলেন, ‘প্যারালাইসিসে আক্রান্ত মানুষগুলো সমাজের সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। অসুস্থতার কারণে অনেকেই স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেন না। ফলে তারা পরিবার ও সমাজের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তাদের এই কষ্ট ও অসহায়ত্ব আমাকে ভাবিয়েছে। তাই শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, তাদের নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু করার চেষ্টা করছি।’
আব্দুর রহিমের এই উদ্যোগ যেন মনে করিয়ে দেয়—মানুষকে শুধু সাহায্য করাই মানবতা নয়, তাকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়াও মানবতার বড় দৃষ্টান্ত।
প্রতিনিধি/এসএস