Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

চা শ্রমিকদের ভাতায় ‘অনিময়’, তদন্তে নামছে প্রশাসন

জেলা প্রতিনিধি

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩১ পিএম

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দের ভাতা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মাজদিহি চা-বাগানের ৩০ শ্রমিকের অভিযোগ, তাদের প্রত্যেকের ৭ হাজার ৮০০ টাকা করে পাওয়ার কথা থাকলেও গত ২০ আগস্ট কাউকে ৩ হাজার, আবার কাউকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় তদন্ত ও বকেয়া টাকা পরিশোধের দাবি জানিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শ্রমিকরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি জানতে মাজদিহি চা-বাগানে সরেজমিনে যাব। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগপত্রে শ্রমিকরা জানান, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার যে ভাতা দেয়, তা ব্যাংক এশিয়ার শ্রীমঙ্গল শাখার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। গত ২০ আগস্ট ব্যাংকের প্রতিনিধিরা মাজদিহি চা-বাগানে গিয়ে ভাতা বিতরণ করেন।

শ্রমিকদের দাবি, সেখানে নির্ধারিত ৭ হাজার ৮০০ টাকার পরিবর্তে কাউকে ৩ হাজার এবং কাউকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, কাগজপত্র প্রক্রিয়াকরণের কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিতে টিপসই ও স্বাক্ষর নেওয়া হলেও সেখানে ভাতার পুরো অংক উল্লেখ করা হয়নি। টাকা কম দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ব্যাংকের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ কেউ তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা।

মাজদিহি চা-বাগানের শ্রমিক সন্তুকি রায় বলেন, চা শ্রমিকদের মতো অসহায় জনগোষ্ঠীর ভাতা বিতরণে এ ধরনের অনিয়ম আমাদের ক্ষতির মুখে ফেলছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বকেয়া টাকা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানাচ্ছি।

মাজদিহি চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সভাপতি সাধন কর্মকার বলেন, চা শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে সরকারি বরাদ্দের টাকা থাকা সত্ত্বেও এজেন্টের লোকজন ভাতা কম দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকার যে ভাতা দেয়, সেটি শ্রমিকদের প্রাপ্য। প্রায় দুই হাজার ভাতাভোগীর টাকা কেন কম দেওয়া হবে, তা আমরা জানতে চাই। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হওয়া দরকার।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের প্রায় ৭ হাজার ৮০০ টাকা পাওয়ার কথা, অথচ তারা ৩ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। পঞ্চায়েতের অ্যাডহক কমিটির লোকজন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এভাবে টাকা কম দেওয়া হচ্ছে, তা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে ব্যাংক এশিয়ার জেলা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক তুহিন আহমদ ইয়ামির বলেন, ঘটনাটি মৌখিকভাবে শুনেছি, তবে এখনো লিখিত কাগজ পাইনি। মৌখিকভাবে যতজনের কথা বলা হচ্ছে, সংখ্যাটি তত নয়। অনেকের টাকা সরাসরি বিকাশ বা রকেটেও যায়। বিষয়টি নিয়ে সামনাসামনি কথা বলা প্রয়োজন।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোয়েব হোসেন চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

প্রতিনিধি/এলএ