জেলা প্রতিনিধি
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
ভালোবেসে বিয়ে। কিন্তু বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর স্বামীর বাড়িতে ছয় মাসও বাঁচতে পারল না প্রেমিকা মুন্নি।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের জন্য মুন্নিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর নগরীর পূর্ব কামাল কাছনা এলাকায়। গত ২১ সেপ্টেম্বর শ্বশুরবাড়ি থেকে গৃহবধূ রাফিয়া আক্তার মুন্নির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর নগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তসহ অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত মুন্নির মা রুমানা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, পাঁচ মাস আগে একই এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে পারভেজ মিয়ার (২১) সঙ্গে তার মেয়ে মুন্নির বিয়ে হয়। ভালোবাসার বিয়ে হলেও বিয়ের পর থেকেই ৮ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্বামী পারভেজ, শাশুড়ি পারুল বেগম (৬০) ও ভাসুর ফারুক মিয়া (৪২) তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।
ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে রুমানা খাতুন বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লোকমুখে খবর পেয়ে তারা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যান এবং সেখানে গিয়ে দেখেন তিন কক্ষের ঘরের মূল দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। জানালা দিয়ে দেখা যায়, মুন্নি ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানে ঝুলে আছে, কিন্তু তার পা মেঝেতে লেগে ছিল।
স্ত্রী ফ্যানে ঝুলে আছে অথচ এসময় তার জামাতা পারভেজ অন্য ঘরে মোবাইলে টিকটক দেখায় ব্যস্ত ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নিহতের বাবা মোশাররফ হোসেন বলেন, আমার মেয়ে মানসিকভাবে খুবই শক্তিশালী ছিল। সে আত্মহত্যা করার মতো মেয়ে ছিল না। তাকে হত্যা করে তারা ঝুলিয়ে রেখেছে। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না এবং টাকা লেনদেনের মাধ্যমে মামলা দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের বলেন, টাকা লেনদেনের অভিযোগ সত্য নয়। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রধান অভিযুক্তকে পারভেজকে গ্রেফতার করেছি। বাকিদেরও গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রতিনিধি/এলএ