Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

কারাগারে তারেক সাঈদকে মারধরের অভিযোগ, আসলে কী ঘটেছিল

জেলা প্রতিনিধি

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদকে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিষয়ে স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশের আগ্রহ দেখানোয় তারেক সাঈদের ওপর কারাগারে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে পরিবার।

তবে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারা কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, জেল সুপার, জেলার ও কারারক্ষীদের সঙ্গে তারেক সাঈদ অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন এবং নষ্ট খাবার ছুড়ে মেরেছেন। এ ঘটনায় তারেক সাঈদসহ দুজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তারেক সাঈদের ওপর কারাগারে হামলার খবর পেয়ে তার মা দিলুয়ারা বেগম ছেলের সুচিকিৎসার জন্য গত ২১ সেপ্টেম্বর মুন্সিগঞ্জের সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন তারেক সাঈদের ভাই মুসা মতিউর রহমান।

অভিযোগ ও কারাগার সূত্র জানায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে জেল সুপার মো. জান্নাত-উল ফারহাদের নির্দেশে অন্তত পাঁচজন কারারক্ষী কারাগারের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে তারেক সাঈদের ওপর লাঠি নিয়ে হামলা করেন। এতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

image

কারাগারের ভেতরে অন্য এক বন্দিকে জেল সুপারের ওপর নোংরা পানি ফেলতে উসকানি দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তারেক সাঈদের ওপর এই হামলা হয় বলে কারাগার সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে, গত সোমবার রাতে অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের একটি ফেসবুক পোস্টে পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে বলা হয়, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের আগ্রহ দেখিয়েছিলেন তারেক সাঈদ।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ওই তথ্য যাতে প্রকাশ্যে না আসে, সে জন্য কেরানীগঞ্জে থাকা জিয়াউল আহসানের নির্দেশেই মুন্সিগঞ্জ কারাগারে তারেক সাঈদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

সায়েরের পোস্টে আরও বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার পর তারেক সাঈদ একাধিকবার জিয়াউল আহসানের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, জিয়াউল আহসান চক্রান্ত করে তাকে এ ঘটনায় ফাঁসিয়েছেন।

তারেক সাঈদের পরিবারের পক্ষ থেকে তার মা দিলুয়ারা বেগম কারা কর্তৃপক্ষকে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়টি জানিয়েছেন এবং আহত তারেক সাঈদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মুন্সিগঞ্জের সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বলেও পরিবারের সদস্যদের উদ্ধৃত করে জানান সায়ের।

তবে কারা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তারেক সাঈদের সেলের পাশে কামাল নামে আরেকজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী রয়েছেন। ওই দিন তারেক সাঈদ আগের দিনের নষ্ট খাবার কামালকে রেখে দিতে বলেন। জেল সুপার পরিদর্শনে এলে কামাল ওই খাবার জেল সুপারের দিকে ছুড়ে মারেন। এ সময় তারেক সাঈদও জেল সুপারের সঙ্গে এ নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।

কারা কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, এ সময় তাদের আচরণ উগ্র ছিল এবং তারা হুমকি দিচ্ছিলেন। পরে জেল সুপারের সঙ্গে থাকা সদস্যরা সেলের ভেতরে থাকা বন্দীদের নিবৃত্ত করেন।

image

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও তারেক সাঈদ কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন এবং বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। এ ঘটনায় কারা বিধি অনুযায়ী দুজনের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারেক সাঈদকে মুন্সিগঞ্জ কারাগার থেকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে এবং কামালকে দিনাজপুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ ছাড়া শাস্তি হিসেবে তারেক সাঈদ এক মাস টেলিফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। আর কামালকে ডাণ্ডাবেড়ি পরানো হবে।

জেল সুপার মো. জান্নাত-উল ফারহাদ মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মেইলকে বলেন, তারেক সাঈদের ওপর কেউ হামলা করেনি। ঘটেছে তার উল্টো। তারেক সাঈদই তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন।

উল্লেখ্য, আলোচিত সাত খুনের ঘটনার পর থেকেই তারেক সাঈদ একাধিকবার দাবি করে আসছিলেন, এ ঘটনায় জিয়াউল আহসান সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং তিনিই চক্রান্ত করে তাকে এ মামলায় ফাঁসিয়েছেন।

প্রতিনিধি/এআর