জেলা প্রতিনিধি
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে স্থানীয় লোকজনের বাধার মুখে রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। প্রায় ৩০ বছর ধরে সেখানে বসবাসকারী তিন শতাধিক পরিবারের তীব্র প্রতিবাদের মুখে অভিযান পরিচালনা না করেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উচ্ছেদকারী দল। যদিও স্থাপনা সরিয়ে নিতে এক মাসের সময় দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সীতাকুণ্ডের কুমিরা জোড়ামতল এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষ এই উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গেলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রামের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী। এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জোড়ামতল এলাকায় কেওয়াইসিআর সংলগ্ন রেলওয়ের ভূমিতে তিন শতাধিক পরিবার প্রায় তিন দশক ধরে বসবাস করে আসছেন। তাদের কোনো বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে হঠাৎ উচ্ছেদ করতে আসায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান এবং অবস্থান কর্মসূচি নেন। বাসিন্দাদের তীব্র বাধা ও অসন্তোষের মুখে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শেষ পর্যন্ত অভিযান বন্ধ রেখে ফিরে যায় রেলওয়ের উচ্ছেদকারী দল।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর চৌধুরীসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে রেলওয়ের জায়গায় গড়ে ওঠা স্থাপনা নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বাসিন্দাদের এক মাসের সময় বেধে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে না নিলে পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার অবৈধ দখলদারদের একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশে কুমিরা স্টেশন এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ২২/৩ থেকে ২২/৫ কিলোমিটারের মধ্যবর্তী পশ্চিম পাশে পুরাতন রেলওয়ে সেতু ইয়ার্ডে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা টিনশেড ও ঝুপড়ি ঘর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলওয়ের সম্পত্তি বাণিজ্যিকভাবে ইজারা দেওয়া বর্তমানে বন্ধ থাকা সত্ত্বেও একটি চক্র সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদ করে জায়গাটি স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
প্রতিনিধি/এমআই