জেলা প্রতিনিধি
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে টিনের ছাপড়া ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের সাতজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কামতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন জোনাব আলী (১০৫), তার ছেলে আব্দুল মোন্নাফ (৬৫), নাতি আনোয়ার হোসেন (৪০), দেলোয়ার হোসেন (২৭) ও পুত্রবধূ রাশেদা বেগম (৫৫)। অপর পক্ষের মোহাম্মদ আলী (৬০) ও তাঁর ভাতিজা আবুল হাশেম (৫০)। আহত ব্যক্তিদের মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কামতা মৌজার একটি জমির মালিকানা নিয়ে জোনাব আলী ও মোহাম্মদ আলীর পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। উভয় পক্ষই জমিটি নিজেদের বলে দাবি করছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে।
সম্প্রতি ওই জমির পাশ দিয়ে এলাকাবাসীর চলাচলের জন্য ব্যবহৃত একটি রাস্তা বন্ধ করে টিনের ছাপড়া ঘর নির্মাণ করেন জোনাব আলীর পরিবারের সদস্যরা। এতে মোহাম্মদ আলীর পরিবারের লোকজন আপত্তি জানান। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মাতব্বর ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের কাছে অভিযোগও করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দুই পক্ষকে বসিয়ে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিলেও জোনাব আলীর পরিবারের সদস্যরা তাতে সাড়া দেননি বলে অভিযোগ।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মোহাম্মদ আলী, তার ভাতিজা আবুল হাশেমসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ছাপড়া ঘরটি ভেঙে দিয়ে চলাচলের রাস্তা খুলে দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি এবং পরে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের সাতজন আহত হন।
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জোনাব আলীর নাতি সুজন হোসাইন বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে মোহাম্মদ আলীর পরিবারের কাছ থেকে ৩৫ শতাংশ জমি কেনা হয়েছিল। এরপর থেকে তাদের পরিবার জমিটি ভোগদখল করে আসছে। সম্প্রতি মোহাম্মদ আলীর পরিবার ওই জমির মালিকানা দাবি করছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে।
সুজনের দাবি, ‘‘আমাদের জমিতে আমরা ঘর তুলেছি। তারা ঘর ভেঙে দিয়ে আমার চাচা আব্দুল মোন্নাফ, চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন, চাচি রাশেদা বেগম ও দেলোয়ার হোসেনকে আহত করেছেন।’’
অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহাম্মদ আলী ও আবুল হাশেম বলেন, জমিটি তাদের পরিবারের। জোনাব আলীর পরিবারের লোকজন জমি দখল করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ছাপড়া ঘর নির্মাণ করেন। এ নিয়ে তারা স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বসার প্রস্তাবে জোনাব আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই মঙ্গলবার সকালে তারা গিয়ে ঘরটি ভেঙে দেন। এ সময় জোনাব আলীর পরিবারের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন বলে দাবি করেন তারা।
সরেজমিনে পশ্চিম কামতা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, আলীম উদ্দিনের বাড়ির পশ্চিম পাশে একটি জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। ওই জমির মালিকানা নিয়েই দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ। জমির দক্ষিণ পাশে জিন্নাহ দেওয়ান নামে এক ব্যক্তির পেয়ারা বাগান রয়েছে। ধানখেত ও পেয়ারা বাগানের মাঝ দিয়ে পশ্চিম দিকে প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত একটি রাস্তা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রামবাসী মিলে রাস্তাটি তৈরি করেছেন। রাস্তার পশ্চিম দিকে প্রায় ১০টি পরিবারের বসতি রয়েছে। সম্প্রতি ওই রাস্তার প্রবেশপথ বন্ধ করে ছাপড়া ঘর নির্মাণ করা হলে স্থানীয় বাসিন্দারা আপত্তি জানান। পরে বিষয়টি সালিসের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি।
রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ৭০ বছর বয়সী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বাবুল বলেন, ‘‘আমি চোখে দেখি না। এই রাস্তা দিয়েই চলাচল করতাম। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন অনেক ঘুরে খেতের আইল দিয়ে কষ্ট করে যেতে হয়। সে জন্য বাড়ি থেকে বেশি বের হই না। কারণ, খেতের আইল দিয়ে চলাচলে সময় বেশি লাগে।’’
একই ধরনের অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা রাবেয়া খাতুনসহ আরও কয়েকজন।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, কামতা গ্রামে রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির খবর তিনি শুনেছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস