উপজেলা প্রতিনিধি
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় ‘প্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড’ কারখানা চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর বলছে, কাভার্ডভ্যানে করে বিপুলসংখ্যক গ্যাস সিলিন্ডার কারখানায় রাখা বা ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।
ঘটনাটি তদন্তে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ঢাকার সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামানকে সভাপতি করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
সোমবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক (জোন-৪) হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে এভাবে গ্যাস সিলিন্ডার রাখা বা ব্যবহার নিরাপদ নয়। ঘটনা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।’
হাফিজুর রহমান জানান, বিস্ফোরণের সময় ঘটনাস্থলে ১০ থেকে ১২টি কাভার্ডভ্যান থাকার কথা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। পরে কয়েকটি ভ্যান সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ৯টি সিলিন্ডারবাহী কাভার্ডভ্যান পেয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রতিটি কাভার্ডভ্যানে আনুমানিক ৯০ থেকে ১০০টি করে সিলিন্ডার ছিল। এসব ভ্যানের সব সিলিন্ডার গ্যাসভর্তি ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এভাবে কাভার্ডভ্যানে বিপুলসংখ্যক গ্যাস সিলিন্ডার রাখার বা ব্যবহারের অনুমতি থাকার কথা নয়। কারখানাটির সেফটি প্ল্যানও যাচাই করা হচ্ছে।
রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় ‘প্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড’ কারখানা চত্বরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ছাড়া কারখানার অদূরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এক নারী নিহত হন।
এ ঘটনায় আহত ২৫ জনকে আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনকে গতকাল রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কারখানা চত্বরে বিস্ফোরণের স্থানের আশপাশে বেশ কয়েকটি সিলিন্ডারবোঝাই কাভার্ডভ্যান পড়ে আছে। কয়েকটি ভ্যানে পোড়া দাগও দেখা গেছে। কারখানার বাইরে উৎসুক মানুষের ভিড় রয়েছে। প্রাচীরের বিভিন্ন অংশের ছিদ্র দিয়ে এবং প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে ভেতরের পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা করছে স্থানীয়রা। তবে গণমাধ্যমকর্মীসহ কাউকেই কারখানার ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বিস্ফোরণের সময় কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডার ও লোহার টুকরা ছিটকে আশপাশের বিভিন্ন ভবন ও বাসাবাড়িতে গিয়ে পড়ে। এতে কয়েকটি ভবনের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের দোকানপাটের কাচের জানালাও ভেঙে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, ‘সন্ধ্যার একটু পর দোকান থেকে চা খেয়ে বাসার দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। সঙ্গে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। এরপর আগুনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কে দৌড়ে বাসায় চলে যাই।’
ঘটনার কারণ ও কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর আরও স্পষ্ট হবে।
প্রতিনিধি/এলএ