Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

বরগুনায় ব্রি-৯৮ ধানবীজে ফলন না পাওয়ার অভিযোগ, বিপাকে দুই শতাধিক কৃষক

জেলা প্রতিনিধি

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৯ এএম

বরগুনার আমতলী উপজেলার ছারিকাটা এলাকায় ব্রি-৯৮ জাতের ধানবীজ কিনে কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন দুই শতাধিক কৃষক। আউশ মৌসুমে ফলন না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি একই জমিতে আমন চাষ নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা ধানের গোছা হাতে নিয়ে বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তার শাস্তির দাবি জানান।

কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ছারিকাটা এলাকার দুই শতাধিক কৃষক আউশ মৌসুমে ব্রি-৯৮ চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করে আমতলী পৌর শহরের বাঁধঘাট এলাকার ডিলার খালেক হাওলাদারের কাছ থেকে বীজ কেনেন। 

বীজতলা তৈরি করে চারা রোপণের প্রায় পাঁচ মাস পার হলেও অধিকাংশ জমিতে কাঙ্ক্ষিত ফলন আসেনি। তাদের দাবি, ব্রি-৯৮-এর কথা বলে অন্য জাতের বীজ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

কৃষকরা জানান, ব্রি-৯৮ সাধারণত প্রায় ১১০ দিনের মধ্যে কাটার উপযোগী হওয়ার কথা। এবার সময় পেরিয়ে গেলেও ধান পরিপক্ব না হওয়ায় আউশের পর একই জমিতে আমন চাষের সুযোগ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ধারদেনা করে চাষ করায় অনেকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

কৃষক মো. দুলাল হাওলাদার বলেন, আমি ৮ একর জমিতে ব্রি-৯৮ রোপণ করেছি। কাঙ্ক্ষিত ফলন পাইনি। এখন আমন চাষেরও সুযোগ নেই। ধারদেনা করে চাষ করেছি, কীভাবে ক্ষতি পুষিয়ে নেব বুঝতে পারছি না।

দেলোয়ার গাজী বলেন, আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। কীভাবে সংসার চালাব বুঝতে পারছি না। আমরা ডিলারের শাস্তি চাই।

কৃষক মো. রনি আহমেদ বলেন, দুই শতাধিক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এখন অনেকেরই পথে বসার মতো অবস্থা হয়েছে।

আব্দুল আজিজ বলেন, কৃষিই আমাদের পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। আউশ ও আমন, দুই মৌসুমেই ধান চাষ করি। এবার আউশের ফলন না হওয়ায় আমন চাষ নিয়েও অনিশ্চয়তায় আছি।

অভিযোগ অস্বীকার করে বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদার বলেন, আয়ান সিডের মোড়কে আমি অন্য কোনো জাতের ধান প্যাকেটজাত করিনি। কোম্পানি যেভাবে বীজ দিয়েছে, আমি সেভাবেই কৃষকদের কাছে বিক্রি করেছি।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা সরেজমিনে বিষয়টি দেখতে আসবে। ডিলার বিধি ভঙ্গ করে বীজ বিক্রি করে থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এআরএম