জেলা প্রতিনিধি
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
গাইবান্ধা শহরের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকা থেকে মায়ের কাছ থেকে নিয়ে নিখোঁজ হওয়া ১১ মাসের শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
অভিযোগ উঠেছে, শিশুটিকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা হামিদুল মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিনভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার এবং শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
শিশুটির মা রুমানা আক্তারের অভিযোগ, গত ১৭ জুলাই বিকেলে তার স্বামী হামিদুল মিয়া মেয়েকে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে কোলে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর শিশুটিকে নিয়ে তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরে হামিদুল মুঠোফোনে রুমানার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর হামিদুলের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মেয়ের সন্ধান না পেয়ে রুমানা থানায় অভিযোগ করেন এবং পরে আদালতেরও আশ্রয় নেন।
তার ও পরিবারের অভিযোগ, হামিদুল মাদকাসক্ত এবং মাদকের টাকা জোগাড় করতেই শিশুটিকে নিয়ে আত্মগোপন করেন।
গাইবান্ধা ডিবির ওসি মোত্তালেব সরকার জানান, রোববার সকাল ৯টার পর গাইবান্ধার সাহারবাজার এলাকা থেকে হামিদুলকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পীরগঞ্জের রায়পুর ছোট ওমরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাসের হেলপার মজিদকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে মজিদের দেওয়া তথ্যে ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকা থেকে মোরশেদাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর একই এলাকার ছলের মোড় থেকে সোলেমান চৌকিদারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
ওসি বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। শিশুটিকে কীভাবে ৩১ হাজার টাকায় হস্তান্তর করা হয়েছিল এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় পর শিশুটি উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার খবরে আবেগাপ্লুত হন মা রুমানা।
প্রতিনিধি/এলএ