নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
খাগড়াছড়িতে ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর গুলিতে নিহত জুনান চাকমা ও রুবেল ত্রিপুরার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাদের স্মরণ করে এবং ন্যায্য বিচারের দাবিতে স্মৃতিফলক উন্মোচন ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সংলগ্ন স্থানে নিহতদের মায়েরা ‘শহীদ জুনান-রুবেল স্মৃতিফলক’ উন্মোচন করেন।
‘জনগণের জন্য যারা জীবন দেন, তারা অমর’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদ, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন (এইচডব্লিউএফ) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
স্মৃতিফলক উন্মোচনকালে ১৯৯৬ সালে নিহত অমর বিকাশ চাকমার পিতাও উপস্থিত ছিলেন।
স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদের আহ্বায়ক এবং নিহত জুনান চাকমার মা রূপসা চাকমা। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ছেলে হত্যার বিচার না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
আবেগতাড়িত কণ্ঠে রূপসা চাকমা বলেন, দুই বছর হলো আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৎকালীন উপদেষ্টা এবং বর্তমান এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম কথা দিয়েছিলেন হত্যার বিচার করা হবে। কিন্তু আজও কোনো বিচার পাইনি।

তিনি বর্তমান রাষ্ট্র ও সরকারের কাছে অবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠন করে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
পিসিপি খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রাঞ্জল চাকমা স্মরণসভায় ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরের রাতের ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীঘিনালায় পাহাড়িদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলার পর খাগড়াছড়ি সদরে যেন তেমন ঘটনা না ঘটে, সেজন্য ছাত্র-জনতা উপালি পাড়া, নারাঙহিয়া, কলেজ পাড়া ও স্বনির্ভর এলাকায় অবস্থান নিয়েছিল। তখন ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হলে জুনান ও রুবেল নিহত হন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা ভেবেছিলাম পাহাড়ে কিছুটা হলেও শান্তি আসবে, অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারব। কিন্তু আমরা পেয়েছি একের পর এক সাম্প্রদায়িক হামলা।
পাহাড়ে ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রসমাজকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
হিল উইমেন্স ফেডারেশন খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির আহ্বায়ক এন্টি চাকমা বলেন, দুই বছরেও এ ঘটনার কোনো বিচার হয়নি, সরকার তদন্ত প্রতিবেদনও প্রকাশ করেনি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ন্যূনতম ক্ষতিপূরণও পায়নি।
বক্তব্যে তিনি দীঘিনালায় ধন রঞ্জন চাকমা, রাঙামাটিতে অনিক চাকমা এবং ২০২৫ সালে গুইমারার রামেসু পাড়ায় সংঘটিত হামলায় তিনজনকে হত্যার ঘটনা স্মরণ করে অবিলম্বে এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পিসিপি খাগড়াছড়ি জেলা শাখার তথ্য ও প্রচার সম্পাদক তৈমাং ত্রিপুরার সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন নিহত রুবেল ত্রিপুরার মা নিরন্তা ত্রিপুরা।
স্মরণসভা শেষে অনুষ্ঠানস্থল থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্বনির্ভর বাজারে গিয়ে শেষ হয়।
নিহতদের স্মরণে শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় খাগড়াছড়িতে ‘গণপ্রদীপ প্রজ্বালন’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে আয়োজকদের পক্ষ থেকে।
আরএনবি/এফএ