Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

‘খাসজমিতে’ গণঅধিকারের কার্যালয় নির্মাণ নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১৪

জেলা প্রতিনিধি

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

পটুয়াখালীর গলাচিপায় ‘খাসজমিতে’ গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয় নির্মাণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ১৪ জন নেতাকর্মী আহত হন। তাদের পটুয়াখালী ও গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের বাদুরা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। 

কাওসার মৃধা, আবুবকর, শফিক, মনসুর, শাকিল, রেজাউল করিম, সামছুল আলম, শিহাব ও সুজনসহ ১৪ জন আহত হন।

গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের বাদুরা বাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ী নুরুর গ্যারেজের পাশে খোকন মৃধার জমির সামনে রাস্তার পাশের সরকারি জমিতে ইউনিয়ন যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কাওসার মৃধার নেতৃত্বে ১০-১৫ জন গণঅধিকার পরিষদের দলীয় কার্যালয়ের জন্য ঘর নির্মাণ করছিলেন। এ সময় বাদুরা বাজারসংলগ্ন সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বাবুল হাওলাদার, জাহাঙ্গীর মৃধা, সামচু, সোহাগসহ কয়েকজন ঘর নির্মাণে নিষেধ করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পটুয়াখালীর আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাবুল হাওলাদার জানান, বাদুরা বাজারে তাদের জমি রয়েছে। দুপুরে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এদের নেতৃত্বে তার ক্রয়কৃত জমিতে জোরপূর্বক ঘর তুলতে যায়। তারা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।

এ বিষয়ে আমখোলা ইউনিয়নের গণঅধিকার পরিষদের সদস্যসচিব এমদাদ হোসেন জানান, সরকারি জমিতে গণঅধিকার পরিষদের অফিস নির্মাণ করতে গেলে বাবুল হাওলাদারের লোকজন হামলা চালিয়ে তাদের ১০ জন কর্মীকে আহত করেন।

অপরদিকে খোকন মৃধা জানান, তার মালিকানাধীন জমির সামনে হাটবাজারের সরকারি চান্দিনা ভিটা রয়েছে। ওই জমির পাশেই বাবুল হাওলাদারের জমি। বাবুল হাওলাদার ওই সরকারি জমি জোর করে দখলে নিতে চান।

খোকন মৃধার স্ত্রী সাহিদ ইসলাম শান্তনা বলেন, এলাকার মজিদ মাস্টারসহ কয়েকজনের কাছে তিনি গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জমিটি ভোগদখল করতে পারছেন না। উল্টো তারা তার জমি বিক্রি করে দিতে বলেছে। তিনি গণঅধিকার পরিষদ করেন, তাই ক্ষুব্ধ হয়ে গণঅধিকার পরিষদকে সেখানে অফিস করতে দিয়েছেন। আজ এখানে ইপিজেডের ঠিকাদার খোকনের নেতৃত্বে হামলা করা হয়।

এ বিষয়ে আমখোলা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জানান, ঘটনাস্থলে না গিয়ে এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিনিধি/এলএ