জেলা প্রতিনিধি
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে প্রেম করে সদ্য বিবাহিত স্ত্রী বর্ষা বেগমকে (২৪) পানির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে পান করান স্বামী, পরে ওই বোতলের বিষমিশ্রিত বাকি পানি স্বামী মোহাম্মদ নয়ন (২১) নিজে পান করেন। এতে ঘটনাস্থলে স্বামী নয়নের মৃত্যু হয়।
শুক্রবার (১৮সেপ্টেম্বর) সকালে নাঙ্গলকোট পৌরসভার হরিপুর উত্তরপাড়া ঢালাই রাস্তার পাশে এ ঘটনা ঘটে।
সকালে নাঙ্গলকোট পৌরসভার হরিপুর উত্তরপাড়া ঢালাই রাস্তার পাশে তারা বিষপান করেন। নয়ন নাঙ্গলকোট উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের কুরকুটা গ্রামের কলিম উল্লার ছেলে। বর্ষা বেগমের বাবার বাড়ি হবিগঞ্জে।
বিষপান করে রাস্তার পাশে ছটপট করতে দেখে স্থানীয়রা তাদের নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। চিকিৎসক নয়নকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্ষার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বর্ষা বলেন, নয়ন বক মারার বিষ পানিতে মিশিয়ে প্রথমে আমাকে দেয়; পরে সে নিজেও পান করে। আমি পানি পান করার আগে বুঝিনি কি মিশিয়েছে, পান করার পর সে বলেছে- ‘পানিতে বক মারার বিষ মিশিয়েছে’।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোবাইল ফোনে রং নম্বরে মাত্র তিন দিনের প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ১৫ দিন আগে ট্রাক হেলপার নয়ন বর্ষাকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসে। তবে কী কারণে বিষপান করেছে- তা জানা যায়নি।
নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মোহাম্মদ শাহীন বলেন, বিষপানের পর হাসপাতালে আনা হলে বর্ষাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে আনার পর নয়ন জীবিত ছিলেন না। পরে বর্ষার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর ইসলাম বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী-স্ত্রী দুজন বিষপান করেছে। এতে নয়ন হোসেনের মৃত্যু হয়েছে এবং তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিনিধি/এলএ