উপজেলা প্রতিনিধি
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
যশোরের শার্শায় মালয়েশিয়া প্রবাসী উজ্জ্বল হোসেনের মরদেহ মৃত্যুর ১৭ দিন পর দেশে ফিরেছে। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কফিনবন্দি মরদেহ তার নিজ বাড়ি উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
উজ্জ্বল হোসেন উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে।
পরিবারের অভাব-অনটন দূর করে স্বজনদের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় ২০১৫ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান উজ্জ্বল। দীর্ঘ প্রবাসজীবন কাটিয়ে ২০২৩ সালে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফিরে বিয়ে করেন। নতুন সংসার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের মাত্র তিন মাস পর স্ত্রীকে রেখে আবারও জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় ফিরে যেতে হয় তাকে।
স্বজনদের ভাষ্য, স্ত্রীকে কথা দিয়েছিলেন আবার দেশে ফিরে সাজাবেন তাদের সংসার, পূরণ করবেন নানা স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রায় তিন বছর পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন উজ্জ্বল। জ্বরে আক্রান্ত হলে সহকর্মীরা তাকে গুরুতর অবস্থায় মালয়েশিয়ার সুলতানা আমিনা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ সেপ্টেম্বর মারা যান তিনি।
দূতাবাসের সহায়তায় তার মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। শনিবার রাতে মালয়েশিয়া থেকে একটি ফ্লাইটে তার কফিনবন্দি মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করেন।
শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে মরদেহ নিজ বাড়ি রঘুনাথপুরে পৌঁছায়। পরে বেলা ১১টায় স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা হয়। এতে পরিবারের সদস্য, স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে উজ্জ্বল হোসেনের মরদেহ দাফন করা হয়।
উজ্জ্বলের স্বজনরা বলেন, পরিবারের ভবিষ্যৎ সুন্দর করার আশায় প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে জীবিত অবস্থায় আর দেশে ফেরা হলো না। ১৭ দিন পর ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে।
প্রতিনিধি/এলএ