জেলা প্রতিনিধি
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
শেরপুরের গারো পাহাড়ে সরকারিভাবে সৃজিত সামাজিক বনের ২৫ হাজার গাছ কেটে নিয়ে গেছে চোর চক্র। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অংশীদাররা। হাজার হাজার গাছ কেটে নেওয়ার পরেও জানে না স্থানীয় বন বিভাগ। তবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন বন কর্মকর্তা।
২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা রেঞ্জের আওতায় বাতকুচি বিটে দাওধারা-কাটাবাড়ি মৌজায় মিনজুরি বাগান নামক স্থানে দশ হেক্টর পাহাড়ি বনভূমিতে সৃজন করা হয় সামাজিক বনায়ন। ২৫ জন অংশীদার নিয়ে মোট ২৫ হাজার আকাশমনি গাছের চারা রোপণ করা হয়।
প্রাপ্ততথ্য অনুযায়ী, বর্তমান গাছগুলোর বাজার মূল্য ৪০ লাখ টাকার উপরে। অভিযোগ রয়েছে পর্যায়ক্রমে বাগানটির প্রায় সবকটি গাছ কেটে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ চক্র। প্রমাণ মুছতে গাছের গোড়া ও শেকড়ও উঠিয়ে নেওয়া হয়। ফলে কোথাও ঘাস ও আগাছা জন্ম নিয়েছে, কোথাও আবার আলামত হিসেবে কাটা গাছের ছোট ছোট টুকরা পড়ে থাকতে দেখা যায়।
অন্যদিকে স্থানীয়রা বাধা দিলেও আসে নানা ধরনের হুমকি। ফলে বনখেকোদের সম্পর্কে ভয়ে কিছু বলতেও চান না স্থানীয়রাও। অভিযোগ উঠেছে বন কর্মকর্তাদের গাফিলতি আর তাদের ম্যানেজ করেই উজাড় করা হয়েছে বন। দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ এবং শ্রম দিয়েও সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছেন অংশীদাররা।
ময়মনসিংহ বনবিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী অভিযোগ অস্বীকার বলেন, এই বিষয়ে আমি অবগত না। গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এ বিষয়ে জানতে পেরেছি।
শেরপুরের সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড ন্যাচারের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জিহাদ বলেন, নির্বিচারে বন কেটে উজাড় করায় ধ্বংস হচ্ছে বন; নষ্ট হচ্ছে সৌন্দর্য।
তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়ে ময়মনসিংহের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম বলেন, শুধু দশ হেক্টরের এই বাগানই নয়; কোথাও ব্যক্তিমালিকানা বাগান বিক্রি হলেও সঙ্গে থাকা সরকারি বনের গাছ কেটে নিয়ে যায় চক্রটি। কয়েক বছরে পুরোনো বেশকিছু গাছ কেটে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে দাওধারা ইসলামিক মিশন হাসপাতালের বাগানটিও।
এমতাবস্থায় জড়িত গাছ চোর চক্রসহ দায়িত্বে অবহেলার কারণে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
প্রতিনিধি/এফএ