জেলা প্রতিনিধি
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫১ এএম
নেত্রকোনার বারহাট্টায় কৃষকের রোপণ করা ধানখেতে ট্রাক্টর চালিয়ে ফসল নষ্ট করে জমি দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। পরে ওই জমিতে নতুন করে ধান রোপণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জমির মালিক মোছা. সাবিনা রহমান বারহাট্টা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের সোনাউল্লারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকেলে থানায় অভিযোগ করেন সাবিনা রহমান।
অভিযোগকারী সাবিনা রহমান ওই গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামীর নাম মজিবুর রহমান। অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন একই গ্রামের রহিছ মিয়া (৬৫), তার স্ত্রী রহিমা আক্তার (৬০), ছেলে জিবন মিয়া (৩৩), সুমন মিয়া (২৮) ও সাজ্জাদ মিয়া (২২)।
অভিযোগ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোনাউল্লারচর এলাকায় খতিয়ান নম্বর ১৩১২, এসএ দাগ নম্বর ২২৯৫ এবং বিআরএস দাগ নম্বর ৪৫০৯-এর ১৬ শতাংশ জমি ২০২২ সালে সাবকবলা দলিলের মাধ্যমে কেনেন সাবিনা রহমান। এরপর থেকে তিনি জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। সাবিনা ঢাকায় থাকায় তার বোন ও ভাগিনা জমিতে চাষাবাদ করেন। সম্প্রতি ওই জমিতে ধান রোপণ করা হয়।
সাবিনার অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রহিছ মিয়া, তার স্ত্রী-সন্তানসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই জমিতে যান। এরপর তারা জমির প্রায় অর্ধেক অংশে রোপণ করা ধানের ওপর ট্রাক্টর চালিয়ে হালচাষ করেন। এতে রোপণ করা ধান নষ্ট হয়ে যায়। পরে ওই অংশে নতুন করে ধান রোপণ করে তারা জমিটি দখলে নেন। এ সময় তিনি ও তার স্বজনেরা বাধা দিলে তাঁদের খুন ও জখমের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন সাবিনা।

স্থানীয় গ্রাম কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, ‘সাবিনা সঠিক কাগজপত্র দেখেই জমিটি কিনেছেন। তিনি সেখানে ধানও রোপণ করেছেন। কিন্তু রহিছ মিয়া তার স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে সম্প্রতি একটি খারিজ করিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করছিলেন। প্রায় এক মাস আগে স্থানীয়ভাবে সালিশে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল, যেহেতু সাবিনা ধান রোপণ করেছেন, তাই তিনিই ফসল নেবেন। জমি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা থাকলে আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই কার্যকর হবে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে রোপণ করা ধানখেতে ট্রাক্টর চালিয়ে ফসল নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।’
সিংধা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল চৌধুরী বলেন, ‘জমির ফসল নষ্ট করে রহিছ মিয়া ও তার লোকজন অপরাধ করেছেন। সাবিনার জমির কাগজপত্র সঠিক। এরপরও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের তহশিলদার রহিছ মিয়ার স্ত্রী রহিমার নামে খারিজ করে দেওয়ায় এ বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। ফসল নষ্টের ঘটনায় বিচার হওয়া উচিত।’
অভিযোগের বিষয়ে রহিছ মিয়ার স্ত্রী রহিমা আক্তার বলেন, ‘খারিজের মাধ্যমে এই জমির মালিক আমি। তাই আজ নতুন করে ওই জমিতে ধান রোপণ করেছি। এর আগে জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে যে সালিশ হয়েছে, তা আমি মানি না।’
সিংধা ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা উজ্জ্বল দত্ত বলেন, ‘ওই জমির খতিয়ানে গরমিল রয়েছে।’ এমন অবস্থায় খারিজের জন্য সুপারিশ করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খারিজ নেওয়ার সময় অনুমান করেছিলাম, এটা নিয়ে ঝামেলা হবে।’
ভুয়া খারিজের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বারহাট্টার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘ভুয়া খারিজের সত্যতা পাওয়া গেলে তা বাতিল করা হবে। আর এতে তহশিলদারের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যাবে। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রোপণ করা ধানখেতে ট্রাক্টর চালিয়ে ফসল নষ্ট করে সেখানে নতুন করে ধান রোপণ করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস