জেলা প্রতিনিধি
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
ছাদজুড়ে বড় বড় ফাটল। খসে পড়ছে পলেস্তারা। ফাটলধরা বিম-পিলার বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষের ভেতর চুইয়ে পড়ে পানি। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই প্রতিদিন পাঠ নিতে হচ্ছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ২৪ নম্বর দক্ষিণ পাল্টাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২৬ শিক্ষার্থীকে।
দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ভবনে চলছে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই সেখানে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে নির্মিত ভবনটিতে রয়েছে তিনটি শ্রেণিকক্ষ। এর মধ্যে দুটি কক্ষের ছাদে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশ প্রায় ২০টি বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের অফিস কক্ষের অবস্থাও নাজুক। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন শিক্ষক ও একজন অফিস সহায়ক কর্মরত আছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের ছাদ ও বিম-পিলারে বড় বড় ফাটল। বিভিন্ন স্থান থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। ছাদের নিচে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেক দেওয়া হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে বসে পাঠ নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় পাঠদানেও বিঘ্ন ঘটে।
দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈম জানায়, আমার মা-বাবা এই স্কুলে আসতে দিতে চান না। কারণ, স্কুলের ছাদের পলেস্তারা ভেঙে পড়ছে। সবাই আসতে ভয় পায়। তবুও আমরা পড়াশোনাকে ভালোবাসি, তাই স্কুলে আসি।
চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, আমাদের বিদ্যালয়ের অবস্থা খুবই খারাপ। বাবা-মা স্কুলে আসতে দিতে চান না। তবুও পড়াশোনা করার জন্য আসি। তাই সবসময় আতঙ্কের মধ্যে পড়াশোনা করছি।
সহকারী শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়ের ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমছে এবং স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ভবনটি সংস্কার, পুনর্নির্মাণ অথবা নতুন ভবন নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
সহকারী শিক্ষিকা দুলালী বেগম বলেন, দক্ষিণ পাল্টাপুর বিদ্যালয়ের ভবনের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। আমাদের স্কুলে আগে প্রতিদিন এক শতজনের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকত। বর্তমানে এক ভাগও শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহসান হাবীব লাবু বলেন, আমি ২০১৭ সাল থেকে এই বিদ্যালয়ের ভবনের জন্য আবেদন করে যাচ্ছি। কর্তৃপক্ষ যখন যেভাবে চেয়েছে, আমার কাছে সেভাবেই কাগজপত্র জমা দিয়েছি।
তিনি বলেন, ভবনের বর্তমান অবস্থায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। দ্রুত বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা কিংবা নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।
বীরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজিদা হক বলেন, বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দেখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে নতুন ভবনের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
প্রতিনিধি/এলএ