জেলা প্রতিনিধি
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২২ পিএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র প্রধান শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। জেলার মোট ৭০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৪১টিতেই বর্তমানে কোনো নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নেই। ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে প্রশাসনিক ও শিক্ষাবিষয়ক কার্যক্রম। এতে দাপ্তরিক জটিলতার পাশাপাশি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার মান ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্যেও এই সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে।
ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকরা জানান, একদিকে তাদের শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত ক্লাস নিতে হচ্ছে, অন্যদিকে সামলাতে হচ্ছে প্রধান শিক্ষকের ফাইলপত্র ও দাপ্তরিক কাজ। এতে তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে এবং স্বাভাবিক পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে এই সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।
সদর উপজেলার টিকরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সামিমা আখতার জানান, এক বছরেরও বেশি সময় আগে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে ক্লাস নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুত একজন নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে পাঠদানের পরিবেশ স্বাভাবিক হতো।
একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমিরুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত পাঠদানের বাইরে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে ঠিকমতো সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক—উভয়কেই ভুগতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে পরিস্থিতি আরও নাজুক। সেখানে নামমাত্র বেতনে অপ্রশিক্ষিত স্থানীয় ব্যক্তিদের দিয়ে ক্লাস করানোর খবরও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নারায়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঠিকমতো ক্লাসে না আসার অভিযোগে চারজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। ওই চরাঞ্চলের অধিকাংশ স্কুলেই শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতির অভাব ও তদারকির ঘাটতি স্পষ্ট।
শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী—চর-আলাচুলি, জহুরপুর, নারায়নপুর, আলিনগর, নয়াগোলা, শিমুলতলা ও টিকরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ জেলার ২৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বর্তমানে প্রধান শিক্ষকবিহীন অবস্থায় রয়েছে।
রেহাইচর এলাকার অভিভাবক শরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক নজরদারির তীব্র ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। শিক্ষকদের নিয়মিত দায়িত্ব বণ্টন বা সন্তানদের শিক্ষার অগ্রগতি নিয়ে অভিযোগ জানাতে গিয়ে অভিভাবকদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
সার্বিক বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জেলার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে এই চাপ আরও বেশি।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। শিক্ষক অনুপস্থিতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংকট কাটাতে এবং দ্রুত পদগুলোতে নিয়োগ বা পদোন্নতি দিতে চেষ্টা চলছে।
প্রতিনিধি/টিবি