উপজেলা প্রতিনিধি
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩২ এএম
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এতে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন একটি গ্রামের প্রায় ৭০ পরিবার। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার মিরসরাই সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কিছমত জাফরাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠে তারা বিদ্যুৎ না পেয়ে প্রথমে এটিকে স্বাভাবিক লোডশেডিং মনে করেন। পরে জানতে পারেন, গ্রামের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারটি চুরি হয়ে গেছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর আওতাধীন জোরারগঞ্জ, ধুম, ওসমানপুর ও মিরসরাই সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরি হচ্ছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত চক্রটির কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। ট্রান্সফরমার চুরির কারণে বিদ্যুৎবিহীন থাকার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিরও মুখে পড়ছেন স্থানীয়রা।
পশ্চিম কিছমত জাফরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মো. ওয়াজি উল্যাহ বলেন, ‘ফজরের নামাজের সময় ঘুম থেকে ওঠার পর বিদ্যুৎ চলে যায়। বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে প্রথমে এটিকে স্বাভাবিক লোডশেডিং মনে হয়েছিল। পরে সকালে জানতে পারি, গ্রামের ট্রান্সফরমারটি চুরি হয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘এমনিতেই প্রচণ্ড গরমে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ। এর মধ্যে ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। নতুন ট্রান্সফরমারের জন্য টাকা দিতে বলা হয়েছে। গ্রামের অনেকে মধ্যবিত্ত ও দিনমজুর। তাদের পক্ষে একসঙ্গে এত টাকা জোগাড় করা কঠিন।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. কামাল পাশা ও মাস্টার আজম বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির পর থেকে মসজিদের মুসল্লিসহ সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হচ্ছে। শিশুদের নিয়ে পরিবারের সদস্যদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে নতুন ট্রান্সফরমারের জন্য প্রায় ৮৭ হাজার টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে। টাকা জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে এলাকার অধিকাংশ মানুষ নিম্নআয়ের হওয়ায় হঠাৎ করে এত টাকা জোগাড় করা তাদের জন্য কঠিন।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, একটি ৫ কেভিএ ট্রান্সফরমারের মূল্য প্রায় ৫৩ হাজার টাকা, ১০ কেভিএর প্রায় ৮৩ হাজার টাকা, ১৫ কেভিএর ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা এবং ২৫ কেভিএর প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। কোনো এলাকায় প্রথমবার ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুন ট্রান্সফরমার পেতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের মূল্যের অর্ধেক পরিশোধ করতে হয়। একই এলাকায় দ্বিতীয়বার চুরি হলে পুরো মূল্য গ্রাহকদের বহন করতে হয়।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর ডিজিএম আদনান আহমদ বলেন, ‘পশ্চিম কিছমত জাফরাবাদে ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি শুনেছি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হচ্ছে। তাদের বলা হয়েছে, ট্রান্সফরমারের একটি মূল্য আছে। ওই মূল্য পরিশোধ করলে দ্রুত ট্রান্সফরমার বসানোর ব্যবস্থা করা হবে।’
মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রতিনিধি/জেবি