জেলা প্রতিনিধি
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলে সোহরাফ গাজীর জালে ধরা পড়েছে ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় আকৃতির ইলিশ। মাছটি প্রতি কেজি ৩ হাজার ৬২৫ টাকা দরে নিলামে বিক্রি হয়েছে। এতে মাছটির মোট দাম দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬১২ টাকা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে মাছটি বিক্রির জন্য কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিয়ে আসেন জেলে সোহরাফ গাজী। পরে নিলামের মাধ্যমে মাছটি কিনে নেন কুয়াকাটা মা মনি ফিসের ম্যানেজার মিজান।
জেলে সোহরাফ গাজী জানান, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পায়রা বন্দর-সংলগ্ন পাইপ বয়ার গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় অন্যান্য মাছের সঙ্গে বড় ইলিশটি তার জালে ধরা পড়ে। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি বঙ্গোপসাগরের গভীরে গিয়ে ইলিশ শিকার করছেন।
সোহরাফ গাজী বলেন, সচরাচর এত বড় ইলিশ পাওয়া যায় না। প্রায় সাত বছর পর এবার তিনি আবার এত বড় একটি ইলিশ পেয়েছেন। মাছটি ভালো দামে বিক্রি হওয়ায় তিনি আনন্দিত।

মাছটি কিনে নেওয়া কুয়াকাটা মা মনি ফিসের ম্যানেজার মিজান জানান, বর্তমানে মৎস্য আড়তে এত বড় ইলিশ খুব কম দেখা যায়। তাই নিলামের মাধ্যমে মাছটি কিনেছেন। মাছটি শরীয়তপুরের এক প্রবাসীর ভাইয়ের বাসায় পাঠানো হবে।
তিনি আরও জানান, এ ধরনের বড় মাছ পাওয়া গেলে জেলে ও আড়তদারসহ সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হতে পারেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল মীর জানান, এত বড় ইলিশ এখন সচরাচর দেখা যায় না। তবে এ ধরনের মাছের দাম নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। ফলে অনেকেরই ছোট ইলিশ বা জাটকা মাছ দিয়েই চাহিদা পূরণ করতে হয়।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার জানান, ছোট ইলিশের অযাচিত আহরণ, নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়া, বাঁধ ও স্লুইস গেটের কারণে মাছের অভিবাসনে বাধা, অবৈধ জালের ব্যবহার এবং সহ-ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে বড় ইলিশের সংখ্যা কমছে। পাশাপাশি পানি দূষণ, প্ল্যাঙ্কটনের ঘাটতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার পরিবর্তন ইলিশের প্রজনন ও খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলছে।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী জানান, বড় আকৃতির ইলিশ ধরা পড়া ভালো খবর। এটিকে নিষেধাজ্ঞার সুফলও বলা যেতে পারে। বড় ইলিশে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি।
প্রতিনিধি/এসএস