জেলা প্রতিনিধি
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫২ এএম
শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্ত এলাকায় ভারত থেকে চোরাই পথে আনা গরু রাখার অভিযোগে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান বিপ্লবের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে তার খামার থেকে সাতটি গরু উদ্ধার করা হলেও স্থানীয় বাজার থেকে কেনার রসিদ দেখানোর পর গরুগুলো মালিকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে গরু জব্দে বাধা, বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ এবং মব সৃষ্টির অভিযোগ করেছে বিজিবি।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার সীমান্তবর্তী ১ নম্বর সিংগাবর্না ইউনিয়নের মাটিভাটা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
বিজিবি ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্ণঝুড়া বিওপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার ফুল মিয়া প্রথমে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান বিপ্লবের খামারের শেডে সন্দেহভাজন গরু রাখা হয়েছে বলে তথ্য পান তিনি। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদকে জানানো হলে তিনি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।
অভিযানে খামারের শেড থেকে সাতটি গরু পাওয়া যায়। বিজিবির দাবি, গরুগুলোর বৈশিষ্ট্য ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে সেগুলো ভারতীয় এবং অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে আনা হয়েছে বলে সন্দেহ হয়। এ অবস্থায় ইউএনও গরুগুলো জব্দ করে থানার হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
তবে গরু জব্দের সময় বিপ্লবের স্বজন ও অনুসারীরা বাধা দেন এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করেছে বিজিবি। পরে তারা স্থানীয় বাজার থেকে গরু কেনার রসিদ দেখান। গরুগুলোর ভারতীয় উৎসের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় ইউএনওর নির্দেশে গরুগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।

কর্ণঝুড়া বিওপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার ফুল মিয়া বলেন, ‘সকালে আমরা গোপন সংবাদ পাই। পরে জানতে পারি গরুগুলো বিপ্লবের খামারে রাখা হয়েছে। সেখানে গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ইউএনওকে জানাই। তিনি পুলিশ নিয়ে আসেন। গরুগুলো দেখে প্রাথমিকভাবে ভারতীয় বলে ধারণা হয় এবং জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু বিপ্লবের অনুসারীরা বাধা দেন ও মারমুখী আচরণ করেন। পরে তারা বাজার থেকে কেনার রসিদ দেখান। শক্ত প্রমাণের অভাবে গরুগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও মারমুখী আচরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ বলেন, ‘বিজিবির তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। প্রাথমিকভাবে গরুগুলো জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের মালিকানা দাবি করে বাজার থেকে কেনার স্লিপ দেখান। পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে গরুগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও মব সৃষ্টির বিষয়ে প্রয়োজন মনে করলে বিজিবি কিংবা প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।’
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বিপ্লব দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তকেন্দ্রিক বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, গরু চোরাচালানের পাশাপাশি মাদক ও মানবপাচারের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তারা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মাহবুবুর রহমান বিপ্লবের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তার স্বজনেরা সব অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
প্রতিনিধি/এসএস