জেলা প্রতিনিধি
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৩ এএম
নাটোরের সিংড়ায় প্রায় ২০ বছর ধরে সাতটি পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে ইটের প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী আয়াত আলীর বিরুদ্ধে। এতে চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাত পরিবারের সদস্যরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
উপজেলার ছাতারদিঘী ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় ২০ বছর ধরে তারা ওই পথ দিয়ে চলাচল করে আসছেন। সম্প্রতি পথটির ওপর ইটের প্রাচীর নির্মাণ করে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে সাবেক সেনাসদস্য মাহবুবুর রহমান, কালীগঞ্জ বনমালী উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেনসহ সাত পরিবারের সদস্যরা সমস্যায় পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস-বিচার হলেও কোনো সমাধান হয়নি। আয়াত আলী ও তার সন্তানেরা প্রভাব খাটিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ তাদের।
ভুক্তভোগী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘২০১৮ সালে আমি স্থায়ীভাবে মার্কেট নির্মাণ করি। ২০১৯ সালে মাপজোখের পর রাস্তা বাদ দিয়ে পাঁচ ফুট জায়গা তার সীমানায় যায়। তখন স্থানীয়ভাবে তার সুবিধার কথা বিবেচনা করে মানবিক কারণে আমি শূন্য দশমিক ৫৫ শতক জায়গা বিক্রি করি। এভাবে চলার একপর্যায়ে প্রায় দেড় বছর আগে তিনি আমার জায়গাসহ রাস্তা দখল করে বসতভিটা নির্মাণ করেন। বারবার নিষেধ করলেও তিনি তা মানেননি। সম্প্রতি রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য প্রাচীর নির্মাণ এবং ইটের গাঁথুনি দিয়ে দরজা তৈরি করেছেন।’

কালীগঞ্জ বনমালী উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘আমার সন্তান নেই। কোনো গণ্ডগোল ভালো লাগে না। হজ করে এসেছি, নিরিবিলি থাকতে চাই। কিন্তু প্রতিবেশী আয়াত আলী আমাদের ওপর জুলুম করছেন। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে আয়াত আলী বলেন, তার বাড়ির সীমানায় তিন ফুট জায়গা রয়েছে। তবে সাত পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
স্থানীয় বিএনপির নেতা আ. মমিন সরকার ও আ. জলিল বলেন, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত উভয় পক্ষের সঙ্গে বসে সমাধান করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তা আরও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।
সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, ‘সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। উভয় পক্ষকে আইনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে।’
প্রতিনিধি/এসএস